রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ৪ জানুয়ারি- ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির একমাত্র ফেডারেল কারাগার হিসেবে পরিচিত এই ডিটেনশন সেন্টারটি আগে থেকেই কুখ্যাত। হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখার কারণে এটি বারবার আলোচনায় এসেছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে মাদুরোকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নিউইয়র্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিইএর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন এবং নিজেকে কোনো ধরনের মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।

নিকোলা মাদুরোর `অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়ার মতো’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউসের সরকারি র্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট। ছবি: রয়টার্স
আদালত সূত্র জানায়, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হবে। তবে কবে তাদের আদালতে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত মামলার শুনানির আগ পর্যন্ত মাদুরোকে এই কারাগারেই রাখা হবে। তবে তার স্ত্রীর বর্তমান অবস্থান বা তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিতর্কিত কারাগারগুলোর একটি। এর আগে যৌন অপরাধের মামলায় দণ্ডিত ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পি ডিডির মতো আলোচিত বন্দিদের এখানে রাখা হয়েছিল। হাই-প্রোফাইল আসামিদের কারণে কারাগারটি বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে।
এই ডিটেনশন সেন্টারটি বন্দিদের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও ভয়াবহ পরিবেশের জন্যও পরিচিত। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বন্দিদের মধ্যে চরম সহিংসতা এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী, গুরুতর আহত বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে এখানে। এমনকি এক বন্দিকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করার পর চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো ২৫ দিন নির্জন সেলে আটকে রাখার মতো অমানবিক আচরণের অভিযোগও উঠেছিল এই কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
এমন একটি কুখ্যাত কারাগারে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au