‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৪ জানুয়ারি- ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, আপাতত ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব তারা সাময়িকভাবে পরিচালনা করবে। এই নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপকে কেউ গভীর উদ্বেগের চোখে দেখছে, আবার কেউ প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, তার সরকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি সব পক্ষকে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক নীতি, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে ভেনেজুয়েলার জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে এমন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে অস্ট্রেলিয়া রয়েছে বলে তিনি জানান।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। রোববার (৪ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের মঙ্গল ও নিরাপত্তার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেন, তিনি আগে ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে চান। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলতে চান। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই জড়িত নয় এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষে তার অবস্থান অপরিবর্তিত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিষয়টি নিয়ে খানিকটা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তিনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন সেটাই ভাবছেন। এরপর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, যদি এভাবে স্বৈরশাসকদের মোকাবিলা করা সম্ভব হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জানে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসী ও ঐতিহাসিক নেতৃত্বের উদাহরণ। তিনি মার্কিন সেনাদের দৃঢ়তা ও অভিযানের প্রশংসা করেন।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে পরিস্থিতির অবনতি এড়িয়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ পাওয়ার অধিকার রাখে।
চীন এই ঘটনায় গভীরভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই শক্তি প্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলে, একটি সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে এবং সে দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো বলেন, মাদুরোকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতি, অর্থাৎ বলপ্রয়োগ না করার নীতির লঙ্ঘন। তিনি বলেন, বাইরের শক্তি কোনো দেশের ওপর স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে না এবং ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সে দেশের জনগণেরই।
দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে একে গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এই পদক্ষেপের পেছনে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে তা ভিত্তিহীন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়ানো নয়, বরং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে জরুরি।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর বলেন, মাদুরো নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় আঁকড়ে ছিলেন। তার মতে, এই ঘটনার খবর মুক্ত বিশ্বের জন্য একটি ভালো সংবাদ।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে একতরফাভাবে চালানো এই হামলা জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কানাডা ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাজে বসবাসের তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
প্যারাগুয়ে সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেন, এই বোমা হামলা একটি অগ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে। তার ভাষায়, এটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর আঘাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অন্য দেশে হামলা চালানো সহিংসতা ও অস্থিরতার দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর অগ্রহণযোগ্য আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান। স্পেন, ইতালি, চিলি, কলম্বিয়া, ইরানসহ আরও অনেক দেশ উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বিশ্ব নেতাদের এই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au