বাংলাদেশ

হাদির হত্যার জন্য দায়ী ইউনূস সরকারের শাসনব্যবস্থা- এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

  • 4:58 pm - January 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৭ বার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও এর সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পর্ক নেই। এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান আইনশৃঙ্খলার ভাঙন ও নির্বাচনী সহিংসতা।

হাসিনা বলেন,
“শরীফ ওসমান হাদির হত্যা ছিল একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা, যা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে চলমান বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার সরাসরি ফল।”

তিনি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এটিকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের উদ্দেশ্য নিজেদের চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া, সামাজিক উত্তেজনা বাড়ানো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা এবং সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করা।

ভারতের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

হাদির হত্যার সঙ্গে ভারতকে জড়িয়ে ঢাকার কিছু মহলের অভিযোগকে “ইচ্ছাকৃত ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের পেছনে রয়েছে মৌলবাদী শক্তি, যারা ইউনূস সরকারের ব্যর্থতাকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

তিনি আরও বলেন,
“ভারতের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র টানার চেষ্টা একটি সাজানো বয়ান, যা জনমতকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেয় এবং দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা বহু দশকের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

হাসিনা বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করেছে।
“এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর,” তিনি বলেন।

হাদির হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা

শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান।

তার মৃত্যুর পর ঢাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এর কার্যালয় এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। একই সময়ে ময়মনসিংহে এক হিন্দু কারখানা শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এত বড় সহিংসতার পরও অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা বা দোষীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপের কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।

সূত্র: ndtv.com/world-news

এই শাখার আরও খবর

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, উত্তরের জেলায় বিদ্যুৎ সংকট

মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ করেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসার কারণে বয়লার পাইপ ফেটে এই…

নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে সরকার: পিআরআই

মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, মার্চ…

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ

মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে…

কঙ্গোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিতাড়িত অভিবাসীদের দুর্বিষহ জীবন, বাড়ছে সংকট

মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশে বিতাড়িত লাতিন আমেরিকার একটি অভিবাসী দল এখন আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) আটকে পড়েছেন। উন্নত জীবনের…

বেক্সিমকো গ্রুপের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে দুদক

মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- দেশ ও দেশের বাইরে বিস্তৃত একাধিক বড় আকারের আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপ সংশ্লিষ্ট প্রায় সাত হাজার কোটি…

প্রথম দফার ভোটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করলেন মোদী

মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, গত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au