মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ ছাড় দিয়ে রেখেছেন এবং তার শাসনামলে বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড সরকার যেভাবে দেখাচ্ছে, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ।
৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার Jagran.com–কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন,
“ইউনূস সরকার চরমপন্থীদের লাগামহীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে। তারা সংখ্যালঘুদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে, আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এভাবে একটি দেশকে ধর্মের নামে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।”
শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে “ভয়াবহ ও লজ্জাজনক” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে তার সরকার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর সহিংসতা ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে গেছে।
তিনি জানান, গত ২০ দিনের মধ্যেই অন্তত ছয়জন হিন্দু পুরুষকে ধাওয়া করে হত্যা করা হয়েছে বা কাছ থেকে গুলি করে মারা হয়েছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ছিল দীপু চন্দ্র দাসের হত্যা। তাকে একটি পোশাক কারখানা থেকে টেনে বের করে নগ্ন অবস্থায় গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।
হাসিনা বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, কিন্তু পরে প্রশাসনই স্বীকার করেছে যে অভিযোগটি মিথ্যা। তবু একজন মানুষকে পুড়িয়ে মারা হলো। এটা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না।”
শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকার বাংলাদেশে ভারতবিরোধী আবহ ইচ্ছাকৃতভাবে উসকে দিচ্ছে এবং যারা ঢাকায় ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালিয়েছে, তাদেরও কার্যত আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন,
“ভারত আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। বহু দশকে যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা কোনো অন্তর্বর্তী সরকার নষ্ট করতে পারবে না।”
তার মতে,
“যে সরকারের বৈধ গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই, তারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থ হয়। তখন সাধারণ সমস্যা জাতীয় সংকটে পরিণত হয়। ইউনূস সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি, আবার দ্রুত ও ন্যায্য তদন্তও করতে পারেনি। ফলে সন্দেহ, ক্ষোভ ও সহিংসতা ক্রমেই বেড়েছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ওসমান হাদির হত্যা প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তার মতে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই সহিংসতার মূল কারণ।
শেখ হাসিনার ভাষায়,
“বাংলাদেশ আজ একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন, রাষ্ট্র দুর্বল, আর চরমপন্থীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এই অবস্থা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, ধর্ম ও উগ্রবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানালে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে এবং বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বহুত্ববাদী পরিচয় ধ্বংস হয়ে যাবে।
সূত্র: Jagran.com | বাংলা ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনা: OTN Bangla Desk
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au