‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন ৯ জানুয়ারি: ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে সামরিক হামলার ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে মার্কিন সিনেট। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেটে ৫২-৪৭ ভোটে এই ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাসের পথে এক ধাপ অগ্রসর হয়, যা কার্যকর হলে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।
সব ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং পাঁচজন রিপাবলিকান এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তবে এটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে এবং তিনি ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
এই ভোটাভুটি আসে এমন এক সময়, যখন মার্কিন বাহিনী এক আকস্মিক রাতের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে। একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ও সরকার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাম্প ও তার কর্মকর্তারা ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড দখল বা কিনে নেওয়ার কথাও প্রকাশ্যে বলছেন, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটররা বলছেন, ট্রাম্প এখন একের পর এক আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যা কংগ্রেসের যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক ক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া পাঁচ রিপাবলিকান হলেন:
র্যান্ড পল (কেন্টাকি), লিসা মারকাউস্কি (আলাস্কা), জশ হাওলি (মিসৌরি), সুসান কলিন্স (মেইন) ও টড ইয়ং (ইন্ডিয়ানা)।
ভোটের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন,
“এই সিনেটরদের আর কখনো নির্বাচিত হওয়া উচিত নয়।”
এই ভোটের উদ্যোক্তা ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন,
“এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপে কংগ্রেসকে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। গোপনে যুদ্ধ চালানো বন্ধ করতে হবে।”
ডেমোক্র্যাটদের মতে, মাদুরো আটক ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাব কংগ্রেসের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গালেগো জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানো থেকে বিরত রাখতে আলাদা একটি প্রস্তাব আনছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন,
“আর কোনো খেয়ালখুশির যুদ্ধ নয়। তাকে আরেকটি দেশ আক্রমণ করার আগেই থামাতে হবে।”
টিম কেইন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ছাড়াও কিউবা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও নাইজেরিয়া বিষয়ে একই ধরনের প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রিপাবলিকান সিনেট নেতা জন থুন বলেন,
“প্রেসিডেন্ট এই অঞ্চলে শক্তির মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভেনেজুয়েলা সেই বার্তা স্পষ্টভাবে পেয়েছে।”
কিন্তু দলের ভেতরেই ভিন্নমত বাড়ছে। সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম পর্যন্ত বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প চাইলে গ্রিনল্যান্ডের মতো দেশেও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
“কমান্ডার ইন চিফ মানে কমান্ডার ইন চিফ। তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারেন,” বলেন গ্রাহাম।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের, আর প্রেসিডেন্ট হলেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা হয়নি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন পাস হয়, যেখানে বলা আছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হবে এবং অনুমোদন ছাড়া ৬০ থেকে ৯০ দিনের বেশি যুদ্ধ চালানো যাবে না।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প এই সীমারেখাকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অতিক্রম করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলা নিয়ে সিনেটের সাম্প্রতিক ভোটকে ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে এক শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Source: ABC News
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au