চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১০ জানুয়ারি- আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫৫তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগারে দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় চূড়ান্তভাবে পূর্ণতা পায়। বঙ্গবন্ধু নিজেই এই ঘটনাকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রাখা হয়। ওই সময় গোটা বাঙালি জাতি যখন স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত, তখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে প্রহসনের বিচারে ফাঁসির আসামি হিসেবে প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে কাটাচ্ছিলেন। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের পর বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত তাকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
দীর্ঘ ২৯০ দিন কারাবন্দি থাকার পর লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পৌঁছান। সেদিন পুরো বাংলাদেশে ছিল উৎসবের আবহ। গোটা জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতাকে ফিরে পাওয়ার জন্য। লাখ লাখ মানুষ ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হয়। বিমানবন্দর থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দান, যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত, পর্যন্ত সড়কজুড়ে মানুষের ঢল নামে।
স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই বঙ্গবন্ধু আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ নয় মাস ধরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসরদের চালানো গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর শুনে তিনি অশ্রুসিক্ত হন। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে ভিজে ওঠে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে দেশের আকাশ-বাতাস। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া ভাষণে শেখ মুজিব বলেন, যে মাটি, যে মানুষ এবং যে জাতিকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, সেখানে তিনি ফিরতে পারবেন কিনা তা জানতেন না। কিন্তু আজ তিনি স্বাধীন বাংলায় ফিরে এসেছেন এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৪৭ সালে ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার মানুষকে নতুন করে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি সেই শাসনের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তিনি বাঙালিকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পথে এগিয়ে নেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন জ্বালিয়ে দিয়েছিল অনুপ্রেরণার দীপ্ত আলো। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। এই তাৎপর্যপূর্ণ দিনের স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au