মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ১০ জানুয়ারি: গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নিতে চায় এবং তা প্রয়োজনে কঠোর উপায়েও বাস্তবায়ন করা হবে বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলে নেবে, দ্বীপটির জনগণ বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পছন্দ হোক কিংবা না হোক।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। বৈঠকে তাকে প্রশ্ন করা হয়, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে কত অর্থ ব্যয় হতে পারে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, এখন তিনি অর্থের হিসাব নিয়ে কথা বলছেন না। তার ভাষায়, “হয়তো পরে টাকা নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু এখন আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু করতে যাচ্ছি। তারা এটা পছন্দ করুক বা না করুক।”
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে পদক্ষেপ না নিলে সেখানে রাশিয়া কিংবা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চাই না রাশিয়া বা চীন আমাদের প্রতিবেশী হোক। সে কারণেই আমাদের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।”
গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি সহজ উপায়ে মিটমাট করতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে কঠিন পথেও হাঁটতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “সহজ উপায়ে না হলে কঠিন উপায়েও করতে হবে।”
গ্রিনল্যান্ড কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, মালিকানা না থাকলে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। তিনি বলেন, “লিজ নেওয়া জায়গাকে পুরোপুরি রক্ষা করা যায় না। মালিক হতে হয়। আমরা মালিক হলে গ্রিনল্যান্ডকে সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারব।”
এর আগেও একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার কথা বলেছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত বছরের মার্চের শেষ দিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে গ্রিনল্যান্ড একসময় স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে হোয়াইট হাউসের অবস্থান এতটা স্পষ্ট নয়। ৬ জানুয়ারি রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সব বিকল্পই খোলা থাকে। এর পরদিন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে কোনো আগ্রাসন হলে দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত।