মিয়ানমারে ৬ মাসে ৭০০ মানুষকে হত্যা করেছে সামরিক বাহিনী
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- মিয়ানমারে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে দেশটির সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তাদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আবারও সংকট কাটিয়ে দেশজুড়ে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, গ্রেপ্তার–মামলা পরিস্থিতি এবং নেতৃত্বের বড় অংশের আত্মগোপনের মধ্যেও দলটি মাঠে সক্রিয়তা দেখানোর কৌশল নিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বড় আকারে ঝটিকা মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংগঠনের “অস্তিত্ব ও শক্তি প্রদর্শনের” একটি রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে সংগঠন পুনর্গঠন, অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সক্রিয় রাখা, দুই লক্ষ্যই একসঙ্গে সামনে রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে নামার কৌশল
দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় দ্রুত শুরু ও দ্রুত শেষ হওয়া ঝটিকা মিছিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্য দীর্ঘ সমাবেশের পরিবর্তে ছোট সময়ের মধ্যে উপস্থিতি জানান দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্বের নির্দেশনায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে সীমিত পরিসরে মিছিল করার কথা বলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে গোপন সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
দলীয় একাধিক নেতা বলছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে মাঠের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা, অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের প্রতি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত
সংগঠন পুনর্গঠন ও অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন, সাংগঠনিক কাঠামো আবার সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেখানে নতুন সমন্বয় আনা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি পর্যায়ের অন্তত ৫২ জন নেতা সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁদের অনেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মামলায় জামিন পাওয়া সহজ হওয়ায় দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত নেতৃত্ব ও যোগাযোগ
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেশের ভেতরের কাঠামোর যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সময় অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি কলকাতায় অবস্থানরত কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বৈঠক করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। সেখানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্মীদের করণীয় এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আওয়ামী লীগের ৭৭ বছর। ছবিঃ সংগৃহীত
ভার্চুয়াল ও সীমিত কর্মসূচি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধতা থাকলেও দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, টুঙ্গিপাড়ায় সমাধিতে দোয়া ও প্রার্থনা, ভার্চুয়াল আলোচনা সভা, অনলাইন প্রচারণা এবং খাদ্য বিতরণ।
অনেক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বার্তা দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
আগামী কর্মসূচির ইঙ্গিত
দলীয় সূত্র আরও জানায়, আগামী ১ জুলাই দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটি সাংগঠনিক শক্তি পুনরায় দৃশ্যমান করার একটি ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের উপস্থিতি ধরে রাখা না গেলে মাঠ পর্যায়ে দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে।
মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপ
গত ২২ মাসে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক হাজার ৮৬৮টির বেশি মামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এসব মামলায় দুই লাখেরও বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।
এ ছাড়া দুর্নীতি দমন ও অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগে শত শত মামলা ও তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশ বলছে, এসব মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
মাঠ পর্যায়ে দ্বিধা ও বাস্তবতা
মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে সংগঠনের নির্দেশনা, অন্যদিকে গ্রেপ্তার ও মামলার ভয়। অনেক স্থানীয় নেতা বলছেন, ঝটিকা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।
তবে নেতৃত্বের আরেক অংশ মনে করছে, মাঠে না নামলে সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই সীমিত পরিসর হলেও উপস্থিতি দেখানো জরুরি।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আওয়ামী লীগের জন্য এক জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একদিকে সংগঠনের উপস্থিতি ও শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা, অন্যদিকে মামলা, গ্রেপ্তার, নিষেধাজ্ঞা ও নেতৃত্ব সংকটের চাপ। এই দুই বাস্তবতার টানাপোড়েনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au