এআই- জেনারেটেড প্রতীকী মন্দিরের ছবি
মেলবোর্ন: অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত হিন্দু ও বাঙালি কমিউনিটির বহুদিনের এক লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রবাসের মাটিতে নিজস্ব এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার যে আকাঙ্ক্ষা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে এনেছে, তারই ফল হিসেবে টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেন্টার ফর পূজা অ্যান্ড কালচার লিমিটেড (CPCL) অবশেষে সিডনির ব্ল্যাকটাউনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এই মাটিতেই গড়ে উঠবে সিডনিতে বাংলাদেশি হিন্দু কমিউনিটির প্রার্থনা ও সংস্কৃতির নতুন ঠিকানা। ছবি: সরবরাহকৃত
৩৩ বেডফোর্ড রোড এবং তার সঙ্গে থাকা আরও দুটি জমি মিলিয়ে প্রায় ৪,৪৬১.৫ বর্গমিটার জায়গার এই সম্পত্তি সরকারিভাবে উপাসনালয় স্থাপনের অনুমোদিত এলাকায় অবস্থিত। এটি শুধু একটি জমি নয়; এটি অস্ট্রেলিয়ায় হিন্দুদের জন্য একটি স্থায়ী মন্দির, সংস্কৃতি কেন্দ্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আত্মপরিচয়ের ভিত্তি, যা হবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
২০০৩ সালে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার ইনকরপোরেটেডের লক্ষ্য ছিল একটি স্থায়ী বাংলাদেশী ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করা। মন্দিরের এই প্রকল্প নিয়ে ওটিএন বাংলা কথা বলেন, সিপিএল এর বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ড. স্বপন পালের সাথে। তিনি আনন্দের সাথে বলেন,
“এতদিন ধরে পূজা, উৎসব ও ধর্মীয় আয়োজনগুলো আমাদের করতে হয়েছে ভাড়া করা হল কিংবা অস্থায়ী জায়গায়, অনিশ্চয়তা আর নানা রকম সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে। কখনো ঠিক সময়ে ভেনু বুকিং নিয়ে দুশ্চিন্তা, কখনো পরিবেশের অনুকূলতা—সব মিলিয়ে প্রতিটি আয়োজনই হতো এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এখন সেই দীর্ঘদিনের অস্থিরতা অবসানের পথে। নিজস্ব একটি স্থায়ী কেন্দ্র গড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চা একটি স্থায়িত্ব মর্যাদা পাবে, যা হবে বাংলাদেশীদের সম্মান এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নতুন দিগন্ত।”
এই জমিতেই গড়ে উঠবে মন্দির, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, শিক্ষাকেন্দ্র, কমিউনিটি হল। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য রয়েছে আরও মানবিক ও দূরদর্শী পরিকল্পনা—সিনিয়রদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক আবাসন এবং কমিউনিটির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্যদের জন্য এনডিআইএস (NDIS) সেবা গড়ে তোলার উদ্যোগ, তিনি যোগ করেন।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জমি ক্রয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাও প্রায় শেষ প্রান্তে। এই প্রকল্পের জন্য জমি ক্রয় বাবদ আনুমানিক খরচ প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে জমির মূল্যই ৪.৬ মিলিয়ন ডলার।
কমিউনিটি সদস্যদের সহায়তা ও সংগঠনের নিরলস প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে প্রায় ৪.৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ হওয়ার পথে। অর্থাৎ মোট প্রয়োজনের ৮৫ শতাংশেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে যোগান হয়েছে। তবে সিপিসিএল কোনো ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যাংকের কাছে আবদ্ধ হয়ে থাকতে চায় না।

এই জমিতেই স্থাপিত হবে বাংলাদেশীদের মন্দির এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রচিত হবে নতুন ইতিহাস। ছবি: সরবরাহকৃত
একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণের বোঝা নিয়ে শুরু করতে হলে ভবিষ্যতের পথ কঠিন হয়ে উঠতে পারে এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই ব্যাংক ঋণ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমনটাই জানান ড. স্বপন পাল।
তাই অর্থের বাকি অংশটুকু পূরণ করতে কমিউনিটির সরাসরি সহযোগিতাই একমাত্র পথ। এই ক্রয়কৃত সম্পত্তির চূড়ান্ত সেটেলমেন্ট হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সব অর্থ নির্বিঘ্নে পরিশোধ নিশ্চিত করতে ১৬ জানুয়ারির মধ্যে, অথবা সর্বোচ্চ ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অনুদান দেওয়ার জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটির সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যে কোনো অনুদান সরাসরি জমি ক্রয়ের কাজে ব্যবহার হবে।
এই প্রকল্পটি কেবল বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবেই পরিকল্পিত। ধাপে ধাপে এখানে গড়ে উঠবে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির কমপ্লেক্স—যার মধ্যে থাকবে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা, ফাংশন হল, বাণিজ্যিক স্থাপনা, সিনিয়রদের জন্য আবাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবা কেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থানটি রূপ নেবে এক বিস্তৃত আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে, যেখানে বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মানবিকতার এক অপূর্ব মিলন ঘটবে।
বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে যেকোনো অনুদান সাদরে গ্রহণ করা হবে।
অনুদান পাঠানোর জন্য ব্যাংকের তথ্য: অ্যাকাউন্ট নাম: Centre for Puja Property, ব্যাংক: St George Bank, Australia, BSB: 112 879, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 427 404 178
অনুদান পাঠানোর পর অনুগ্রহ করে আপনার বিবরণ পাঠান, যাতে আপনার অবদান স্বীকৃত ও সংরক্ষিত করা যায়।
সিডনির বুকে মন্দির নির্মাণ স্বপ্ন এখন বাস্তবের দোরগোড়ায়। প্রয়োজন শুধু কমিউনিটির সদস্যদের কিছু আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা। এটি শুধু একটি জায়গা কেনা নয়। এটি ইতিহাস গড়া।
এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ওয়েবসাইটে দেয়া নাম এবং নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
https://cpcl.org.au/