‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৪ জানুয়ারি- ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে ভোট না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দল নিষিদ্ধ থাকায় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি এ আহ্বান জানান। যদিও নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এতে তিন হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তবে ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম কোনো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলটির সমর্থক ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা না থাকলে ভোট নয়’। এই অডিও বার্তাটি দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে দলীয় বিবৃতিতেও এই অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নৌকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক।
এক অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, তারা নির্বাচন বর্জন করছেন না। বরং ভোট দিতে চাইলেও তাদের সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমরা ভোট দিতে চাই, কিন্তু আমাদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। ব্যালটে যেখানে নৌকা নেই, সেখানে আমরা ভোট দিতে পারি না।’ তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে নিজেদের অবস্থানের পার্থক্য টেনে বলেন, বিএনপি ভোট বর্জন করেছিল, আর আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি বুঝে গিয়েছিল যে জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড ভুলে যাবে না এবং ভোট দেবে না, সে কারণেই তারা নির্বাচন বর্জন করেছিল। আওয়ামী লীগ সে পথে হাঁটছে না বলেও তিনি দাবি করেন।
অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে আস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণের রায়ের ওপর তাদের বিশ্বাস রয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হোক, ব্যালটে নৌকা প্রতীক রাখা হোক এবং সবাই মিলে নির্বাচনের রায় মেনে নেওয়া হোক। জনগণের ইচ্ছাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।
একই অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের বিরোধিতাও করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই। পাশাপাশি একটি নির্বাচিত সরকারও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে অতীত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটপ্রাপ্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানা যায়, দলটি ১৯৯১ সালে ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে ৩৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, ২০০১ সালে ৪০ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ৪০ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলটির ভোটপ্রাপ্তির হার ছিল ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও আলোচনায় রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে সহিংস দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার দায় তার ওপর বর্তায়। জাতিসংঘের হিসাবে ওই সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য কোটা বাতিলের দাবিতে। পরে সুপ্রিম কোর্ট কোটা বাতিল করলে এবং সরকার তা মেনে নিলেও আন্দোলন থামেনি। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাজারো মানুষ শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে হামলা চালিয়ে তা ভাঙচুর ও লুট করে। ওই দিনই তিনি ঢাকা ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।
সূত্রঃ ডিএনএ ইন্ডিয়া
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au