মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৫ জানুয়ারি- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটভিত্তিক আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্য সংশয় জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় দলটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরেন মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। সেখানে তিনি বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান সংকট অস্বীকার করার সুযোগ নেই এবং ইসলামী আন্দোলনের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি তারা কখনোই গ্রহণ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে এবং সেই পাটাতন পুনর্গঠনের কথাও বলেছেন তিনি। এই বক্তব্য ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে সংশয় তৈরি করেছে বলে জানান গাজী আতাউর রহমান। তার ভাষায়, জামায়াত ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মতো কোনো ভূমিকা পালন করবে কিনা, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই জোটের ১১টি দলের মধ্যে কে কোন আসনে প্রার্থী হবেন, তা ঘোষণার জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসন বণ্টন নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো না যাওয়ায় এই ঘোষণা বাতিল করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন যেখানে ৫০টি আসন দাবি করছে, সেখানে জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয় বলে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গাজী আতাউর রহমান বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে সমঝোতা হলে আসন কমবেশি নিয়ে সমস্যা হতো না। কিন্তু জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই কেউ কেউ সব আসনেই নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে প্রচার করছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। এ ধরনের আচরণ চললে সামনে একসঙ্গে পথ চলা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সমঝোতা হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দলের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি, প্রার্থীদের বক্তব্য ও সাংগঠনিক বাস্তবতা পর্যালোচনা করে বৃহস্পতিবার মজলিসে আমেলার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই যাদের সঙ্গে পথ চলেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আগামী দিনের কৌশল কী হবে, সে বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। দলটি সবার সঙ্গে আলোচনা করে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলেও উল্লেখ করেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট যে অপরিবর্তনীয় নয়, সেই ইঙ্গিত দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে রাজনীতিতে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au