গর্ভপাতে কাতরাচ্ছে পৃথিবী
স্বর্গ থেকে ইরা নেমে এলো এক মায়ের জঠোরে। মায়ের উষ্ণ আশ্রয়ে সেই নিষ্পাপ স্পন্দন পরিপূর্ণ হতে থাকলো- নাভি বন্ধনের অন্ধকার ঘর ছেড়ে পৃথিবীর আলো-বাতাসে মুক্ত…
মেলবোর্ন, ১৫ জানুয়ারি- আইফোনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিরি)-সহ বিভিন্ন সেবার উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জন্য গুগলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে অ্যাপলের বিভিন্ন সেবা গুগলের জেমিনি এআই মডেল দ্বারা পরিচালিত হবে।
এক যৌথ বিবৃতিতে অ্যাপল ও গুগল জানিয়েছে, এটি ‘বহু বছরের সহযোগিতা’, যা অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ও উদ্ভাবনী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অ্যাপলের নিজস্ব এআই উন্নয়নে সতর্ক ও ধীরগতির কৌশলকেই প্রকাশ করে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে অন্য কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।
আইডিসি বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেন, ‘এআইয়ের মূলভিত্তি গুগলের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অ্যাপল কার্যত স্বীকার করছে যে, স্বল্পমেয়াদে তাদের নিজস্ব এআই সক্ষমতা ও পরিসর গুগলের জেমিনির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো ছিল না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদিও এটি অ্যাপলের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত, তবে এটি তাদের দীর্ঘদিনের নীতি- নিজস্ব প্রযুক্তির প্রতিটি স্তরের মালিকানা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।’
“নিজস্ব প্রযুক্তির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই অ্যাপলকে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে রাখতো,” যোগ করেন জেরোনিমো।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিকে ভোক্তারা ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করবেন, কারণ গুগল, স্যামসাংসহ অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এআই ফিচার যুক্ত করে এগিয়ে যাচ্ছে, আর আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যেও এসব ফিচারের চাহিদা বাড়ছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক পাওলো পেস্কাতোরে বলেন, অ্যাপলের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইফোন কেনার ক্ষেত্রে এআই এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।
তবে তার মতে, ‘এআইভিত্তিক সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা ধীরে ধীরে বদলাবে।’
এর আগে ২০২৪ সালের জুনে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই-এর সঙ্গে একই ধরনের একটি চুক্তি করেছিল অ্যাপল। ওই চুক্তির আওতায় অ্যাপলের জেনারেটিভ এআই সেবা অ্যাপল ইন্টেলিজেন্ট-এ চ্যাটজিপিটি যুক্ত করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে অ্যাপল ও গুগল জানায়, অ্যাপল ইন্টেলিজেন্ট অ্যাপলের Private Cloud Compute সিস্টেমেই চলবে এবং গোপনীয়তার মান বজায় থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “পর্যালোচনার পর অ্যাপল সিদ্ধান্তে এসেছে যে, গুগলের এআই প্রযুক্তিই Apple Foundation Models-এর জন্য সবচেয়ে সক্ষম ভিত্তি। এটি অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার দ্বার খুলে দেবে।”
নিয়ন্ত্রকদের জন্য ‘রেড ফ্ল্যাগ’?
এই চুক্তির আর্থিক মূল্যসহ বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে অতীতে অ্যাপল ডিভাইসে গুগলের সফটওয়্যার ব্যবহারের চুক্তিগুলোর মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ছিল।
বিশ্লেষক জেরোনিমোর মতে, যদিও অনেক আইফোন ব্যবহারকারী গুগলের সেবা ব্যবহারে অভ্যস্ত, তবুও এই চুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য সতর্কতার সংকেত হতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে এক মার্কিন আদালত গুগলকে অনলাইন সার্চে অবৈধ একচেটিয়া ব্যবসার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পর জানা যায়, ২০২১ সালেই গুগল আইফোনে নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন ডিফল্ট রাখতে অ্যাপলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ২৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আগেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এমন চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি (সিএমএ) গত অক্টোবরে জানায়, দেশটিতে অ্যাপল ও গুগলের মধ্যে কার্যত একটি ডুয়োপলি (দ্বৈত আধিপত্য) বিদ্যমান।
সংস্থাটি অ্যাপল ও গুগলকে “স্ট্র্যাটেজিক মার্কেট স্ট্যাটাস” প্রদান করেছে, যার ফলে অতিরিক্ত বাজারক্ষমতা থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au