দেশজুড়ে ভক্তসমাগমে শুরু তিন দিনব্যাপী আবির্ভাব-স্মরণ উৎসব, ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ০৫ মার্চ- পাবনার হিমাইতপুরে প্রভাতের সমবেত প্রার্থনা, সন্ধ্যার প্রদীপ প্রজ্বলন ও ধর্মালোচনার মধ্য দিয়ে পুণ্য দোল-পূর্ণিমা তিথিতে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম শুভ আবির্ভাব-বর্ষ স্মরণ মহোৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার ২ মার্চ আশ্রম প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে তিন দিন।
উৎসবের প্রথম দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে আশ্রম অঙ্গন। সন্ধ্যায় মহোৎসবের উদ্বোধন করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও বগুড়া অঞ্চলের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিৎ সাহা। পরে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চিকিৎসক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ডা. সরওয়ার জাহান ফয়েজ।
সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সহ প্রতি ঋত্বিক প্রাণশঙ্কর দাসের সভাপতিত্বে ধর্মালোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সজ প্রতি ঋত্বিক সৌমিত্র মজুমদার পলাশ। ‘দোল-দীপালির প্রাণনদীপনায় পরমতীর্থ’ শীর্ষক আলোচ্য বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের সুমন ঘোষ বাদশা, ঋত্বিক পরিষদের সহ-ঋত্বিক সচিব অধ্যাপক মোহিত কুমার বিশ্বাস, সুনির্মল মণ্ডল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী রণজিৎ বর্মন, নির্বাহী সদস্য মুকুল কুমার বর্ধন, সিলেটের চন্দন কুমার সাহা, অধ্যাপক সমাপ্ত কুমার সাহা, সুশান্ত পাল বাচ্চু, চট্টগ্রামের তপন কান্তি দত্ত ও সিরাজগঞ্জের গগন ঘোষসহ অনেকে।
এর আগে দুপুরে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু। সৎসঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সহ প্রতি ঋত্বিক বিকাশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকার শ্রী লিখন চন্দ্র রায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঞ্জয় কুমার দাস, চট্টগ্রামের ডা. এস কে বল শুভ, শ্রী বিভু চক্রবর্তী ও শ্রী বিমল চন্দ্র দে আকাশ।
মহোৎসবের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ৩ মার্চ সন্ধ্যার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের। বিশেষ অতিথি থাকবেন পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী রমেশ দত্ত, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার এবং সমাজসেবক সাংবাদিক আঁখিনূর ইসলাম রেমন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী এই মহোৎসবে ধর্মসভা ছাড়াও ঊষালগ্নে মাঙ্গলিকী, তারকব্রহ্ম নামসংকীর্তন, সকাল-সন্ধ্যা বিরতিহীন নাম-ধ্যান, সমবেত প্রার্থনা, সদগ্রন্থ পাঠ ও ভক্তিগীতি পরিবেশিত হবে। এছাড়া বিশ্বকল্যাণে বিশেষ প্রার্থনা, পুরুষোত্তমের শুভ জন্মলগ্ন স্মরণ, ৮১ বার পুষ্পাঞ্জলি, প্রদীপ প্রজ্বলন, শঙ্খধ্বনি, প্রণাম ও অর্ঘ্যাঞ্জলি নিবেদন, জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও সৎসঙ্গ পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানসূচিতে আরও রয়েছে পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা, লীলাকীর্তন, শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর ৫৪১তম আবির্ভাব তিথি স্মরণ, জন্মস্থান প্রদক্ষিণ, ঋত্বিক পরিষদ সভা, ঋত্বিক সম্মেলন, কিশোরমেলা, মাতৃ সম্মেলন, কর্মী সম্মেলন, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং রাত্রিকালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন।