‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- সরকারি মদদে চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে বলে ভারতের যে উদ্বেগ, তা যথার্থ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চরমপন্থী ও জঙ্গি শক্তি সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং দেশকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। পদচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থানকালীন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে মানবিক সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্ক বহু বছরের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ওপর গড়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানানো এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ নীতিগতভাবে সঠিক। সংখ্যালঘু নির্যাতন, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নষ্ট হওয়া এবং ঢাকা থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ভারতের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক প্রাঙ্গণে হামলা, তাকে প্রত্যর্পণের দাবিতে মিছিল এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার হুমকি বাংলাদেশের জনগণের অবস্থান নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালের মূল্যবোধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এই চেতনা মুছে ফেলতে চাইছে, কিন্তু তারা ইতিহাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র ক্ষয় করা হয়েছে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, নির্বিচারে গ্রেপ্তার নিত্যদিনের ঘটনা এবং নারীদের জনজীবন থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন হবে কি না, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো সেটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে কি না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে কোনো নির্বাচন প্রকৃত নির্বাচন হতে পারে না। ঢাকা-৮ আসনে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর প্রশাসনের আচরণকে তিনি তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রকৃত চিত্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তার ভাষায়, প্রশাসন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করেছে এবং বিশৃঙ্খল জনতাকে গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার সুযোগ দিয়েছে।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে বৈধ দলগুলো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। বিএনপি বা জামায়াতঘনিষ্ঠ না হলে মনোনয়ন ফর্ম কিনতেও গ্রেপ্তারের শিকার হতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিকে তিনি কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলে মানতে নারাজ।
আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এখন শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত হয়েছে। ১২০ জনের বেশি সাবেক সংসদ সদস্যসহ দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। কারাগারে অমানবিক পরিস্থিতি, চিকিৎসার অভাব ও নির্যাতনের কারণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করে কোনো সরকার চিরকাল টিকে থাকতে পারে না।
বর্তমান সংকটের দায় তিনি সরাসরি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপান। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অথচ তার সরকারের সময় বাংলাদেশ এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক উন্নয়ন ও ধর্মীয় সহনশীলতার উদাহরণ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশে ফেরার শর্ত প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সাংবিধানিক শাসন ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হলে তার ফেরা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং সত্যিকার অর্থে অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি সন্ত্রাসের রাজত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হলেই তিনি দেশে ফেরার কথা বিবেচনা করবেন।
সূত্রঃ এই সময়
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au