এই ছবিটি বার্গরেটুং পঙ্গাউ (পঙ্গাউ পর্বত উদ্ধার দল) কর্তৃক সরবরাহকৃত। এতে দেখা যাচ্ছে, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার পশ্চিম অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ পঙ্গাউ অঞ্চলে তুষারধসের পর উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
ছবি: বার্গরেটুং পঙ্গাউ (gazettextra)
মেলবোর্ন, ১৮ জানুয়ারি: অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালায় একের পর এক তুষারধসে পাঁচজন স্কিয়ারের মৃত্যু হয়েছে, যা গোটা অঞ্চলকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বারবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা সত্ত্বেও এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে সালজবুর্গের দক্ষিণে গাস্তাইন উপত্যকায়। রোববার বিকেলে পঙ্গাউ এলাকায় সাতজন অফ-পিস্ট স্কিয়ার তুষারধসের কবলে পড়েন। এতে চারজন গুরুতর আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, আর চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অবিশ্বাস্যভাবে একজন স্কিয়ার কোনো আঘাত ছাড়াই প্রাণে বেঁচে যান।
দুপুর ২টার দিকে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় ২,১৯৪ মিটার উচ্চতায় চারটি হেলিকপ্টার, পর্বত উদ্ধারদল, রেড ক্রসের প্রশিক্ষিত কুকুরবাহিনী এবং সংকট মোকাবিলা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এর মাত্র ৯০ মিনিট আগে পাশের বাদ হফগাস্তাইন এলাকায় আরেকটি তুষারধসে এক নারী স্কিয়ার নিহত হন। ফলে ওই দিনের মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। উদ্ধারকর্মীরা বলেন, “এই ট্র্যাজেডি বেদনাদায়কভাবে প্রমাণ করছে বর্তমান তুষারধস পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।”
এরপর বিকেলের দিকে আরও কয়েকটি তুষারধসের খবর পাওয়া গেলেও আর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এই দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগেই, গত মঙ্গলবার স্পোর্টগাস্তাইন স্কি রিসোর্টে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক চেক কিশোর নিহত হয়। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে আসা ওই শিশু একটি খাড়া ঢালে স্কি করার সময় তুষারধসের শিকার হয়। প্রতিরোধক ইস্পাত বিমের মাঝখানে আটকে পড়ে সে প্রায় ১০০ মিটার ওপরে গোল্ডবার্গবাহন স্টেশনের কাছে।
দশজন পর্বত উদ্ধারকর্মী, তিনজন ডগ হ্যান্ডলার ও দুটি হেলিকপ্টার নিয়ে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। প্যারামেডিকরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পঙ্গাউ পর্বত উদ্ধার পরিষেবার প্রধান গেরহার্ড ক্রেমসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কিয়ারদের জন্য তুষারধসের ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল, তবু এই মৃত্যুগুলো ঘটল। শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের গভীর সহমর্মিতা নিহতদের পরিবারের প্রতি।”
পুলিশ হেলিকপ্টারে করে ওই কিশোরের পরিবারকে পাহাড় থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সংকট মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অস্ট্রিয়ার চলতি স্কি মৌসুমে গভীর ছায়া ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করেছেন—নির্ধারিত পথের বাইরে গিয়ে স্কি করা, বিশেষ করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ায়, ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।