সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি: এডুকেশন স্টেট বলে পরিচিত ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে এবার শুরু হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমধর্মী কমিউনিটি–ভিত্তিক সৃজনশীল গবেষণা কর্মশালা – “A Love Letter from Dreamland”। এই প্রকল্প বহু সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের স্মৃতি, পরিচয়বোধ আর নতুন দেশে শিকড় গড়ার অনুভূতিগুলোকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করার এক যৌথ প্রয়াস। বিশেষভাবে বাঙালি–অস্ট্রেলিয়ান নারীদের জন্য আয়োজিত এই প্রকল্পে অংশ নিতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই—শুধু প্রয়োজন নিজের গল্প বলার প্রবল ইচ্ছা।
এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া, বর্তমানে মেলবোর্নে বসবাসরত ভিজ্যুয়াল শিল্পী ও আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মিতা চৌধুরী। তার শিল্পকর্মের মূল বিষয় পরিচয়, স্থানান্তর ও অভিবাসী জীবনের জটিল অনুভূতি। মিতা চান, তার মতো অভিবাসনপথ পেরিয়ে আসা অন্য নারীরাও এই সৃজনপ্রক্রিয়ার অংশ হয়ে নিজেদের গল্প শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরুন। তার কাজ ও গবেষণা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারেন: www.mitachowdhury.com
“A Love Letter From Dreamland” প্রকল্পটি ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া নারীদের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। নতুন দেশে এসে তারা কীভাবে নিজের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ‘অন্তর্গত হওয়ার’ অনুভূতিকে উপলব্ধি করেন—সেই কথাগুলোই উঠে আসবে আঁকা, লেখা, রং আর সেলাইয়ের ভেতর দিয়ে।
দুই সপ্তাহ পরপর তিন মাসব্যাপী এই প্রকল্পে মোট ছয়টি সৃজনশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কর্মশালা হবে দুই ঘণ্টার। অংশগ্রহণকারীরা আঁকাআঁকি, পেইন্টিং, সৃজনশীল লেখা এবং হাতে রুমাল সেলাইয়ের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের অভিজ্ঞতাকে রূপ দেবেন। পুরো কর্মশালার ফলাফল প্রদর্শিত হবে উইন্ডহ্যাম আর্ট গ্যালারিতে—যেখানে দর্শকরা দেখতে পাবেন অভিবাসী নারীদের অনুভূতির অনন্য শিল্পরূপ।

“অংশ নিতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই—শুধু ইচ্ছা থাকলেই চলবে।” মিতা চৌধুরী
ওটিএন বাংলা কথা বলেছে এই গবেষণা প্রকল্পের পুরোধা মিতা চৌধুরীর সাথে। এই প্রকল্প নিয়ে উচ্ছাসিত এই খ্যাতিমান শিল্পী এবং গবেষক ওটিএন বাংলাকে বলেন,
“প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশি–অস্ট্রেলিয়ান নারীদের চ্যালেঞ্জ, একাকিত্ব, ভাষার দেয়াল কিংবা সংস্কৃতির টানাপোড়েন নিয়ে এখনো তেমন কোনো সৃজনশীল গবেষণা হয়নি। এই প্রকল্প সেই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা—যেখানে গল্প বলা নিজেই হয়ে ওঠে আরোগ্যের ভাষা, আর শিল্প হয়ে ওঠে সংযোগের সেতু। একসঙ্গে বসে আঁকা, লেখা আর সেলাইয়ের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শুধু নিজেদের কথাই বলবেন না, গড়ে তুলবেন এক সহমর্মী কমিউনিটি।”
বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী এবং বর্তমানে ভিক্টোরিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী হতে হবে, বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে এবং মোট ছয়টি কর্মশালার মধ্যে অন্তত তিনটিতে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার থাকতে হবে।
এই সৃজন–গবেষণা প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং কর্মশালায় নিবন্ধন করতে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আয়োজিত তথ্য অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
যারা এই সৃষ্টিশীল কর্মশালায় অংশ নিতে চান তাদের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই। শুধু নিয়ে আসুন আপনার স্মৃতি, আপনার স্বপ্ন, আর নিজের গল্প বলার সাহস। শিল্পের ভেতর দিয়েই হয়তো লেখা হবে—স্বপ্নভূমি থেকে এক প্রেমপত্র।

শিল্পী ও গবেষক মিতা চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিউনিটি–ভিত্তিক সৃজন প্রকল্প। ছবি: সংগৃহীত
এখন পর্যন্ত, বিশ্বের কোথাও বাংলাদেশী মহিলা প্রবাসীদের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে পরিচালিত কোনও সৃজনশীল গবেষণার কোনও নথিভুক্ত রেকর্ড নেই। সুতরাং, এই শিল্প প্রকল্পটি হবে বাংলাদেশি প্রবাসী নারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রথম সৃজনশীল গবেষণা, আর আপনিও হতে পারেন এর একজন গর্বিত অংশীদার।
এই শিল্প প্রকল্পের অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হলে অথবা কোন প্রশ্ন থাকলে, ইনফরমেশন সেশনে যোগদানের জন্য নিম্নলিখিত লিঙ্কের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে।
সময়সূচি ও ভেন্যু: প্রকল্পটি চলবে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত, দুই সপ্তাহ পরপর প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩০ থেকে ৮টা ৩০ পর্যন্ত। আয়োজনের স্থান: জুলিয়া গিলার্ড লাইব্রেরি, টারনেইট, ঠিকানা 150 Sunset Views Blvd, Tarneit VIC 3029।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au