চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় পরিচালিত অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে।
নিহত র্যাব কর্মকর্তা ডিএডি মো. মোতালেব। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে র্যাবে সংযুক্ত হয়ে র্যাব-৭-এ কর্মরত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় র্যাবের একটি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যায়। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে কয়েকজন র্যাব সদস্য আহত হন এবং তাদের মধ্যে ডিএডি মো. মোতালেব গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হয় এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতার জন্য আলোচিত। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত চার দশকে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি কেটে এখানে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। দখলকৃত জমিতে প্লট বাণিজ্য চালু রাখতে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র অপরাধচক্র গড়ে উঠেছে।
এলাকাটিতে বসবাসকারীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র ব্যবস্থা চালু রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সহজে সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না। অতীতেও উচ্ছেদ অভিযান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ, র্যাব ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্যে দুটি শক্তিশালী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। এর একটি ‘আলীনগর বহুমুখী সমিতি’, যার নেতৃত্বে রয়েছেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াসিন মিয়া। অপরটি ‘মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদ’, যা নিয়ন্ত্রণ করছেন কাজী মশিউর ও গাজী সাদেক। এই দুই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব সংগঠনের দাপটে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অভিযান ও উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সশস্ত্র প্রতিরোধ ও সহিংসতার কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
র্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au