মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নৈতিক দিক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ ক্যাথলিক নেতারা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির নৈতিক দিক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির শীর্ষ ক্যাথলিক নেতারা। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তিনজন প্রভাবশালী ক্যাথলিক আর্চবিশপ বলেন, বিশ্বজুড়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে বলেন, সামরিক শক্তির ব্যবহার কখনোই স্বাভাবিক নীতি হতে পারে না; চরম পরিস্থিতিতে একেবারে শেষ উপায় হিসেবেই তা বিবেচিত হওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার তিন ক্যাথলিক আর্চবিশপ তাদের বিরল যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শীতল যুদ্ধের অবসানের পর এই প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক গভীর ও তীব্র বিতর্কে প্রবেশ করেছে, যেখানে বিশ্বে আমেরিকার কর্মকাণ্ডের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন শিকাগোর কার্ডিনাল ব্লেইজ কুপিচ, ওয়াশিংটনের কার্ডিনাল রবার্ট ম্যাকএলরয় এবং নিউয়ার্কের কার্ডিনাল জোসেফ টোবিন। তাদের বক্তব্য চলতি মাসের শুরুতে ভ্যাটিকানে দেওয়া পোপ লিওর তীব্র ভাষণের প্রতিধ্বনি বলে মনে করা হচ্ছে। ওই ভাষণে পোপ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহ ও আগ্রাসী মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেন।
পোপ লিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নাগরিক হিসেবে পোপ নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু নীতির সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে আর্চবিশপরা বলেন, ভেনেজুয়েলার ঘটনাপ্রবাহ, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দেওয়া হুমকি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়টিকে নাজুক করে তুলেছে। তাদের মতে, এসব ঘটনা সামরিক শক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা এবং প্রকৃত শান্তির অর্থ নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরছে।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন ও গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সীমা কোথায় হওয়া উচিত এবং শান্তি বলতে আমরা আসলে কী বুঝি।
বিবৃতিতে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আর্চবিশপরা জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন একটি সত্যিকার অর্থে নৈতিক পররাষ্ট্রনীতি। তারা সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থে যুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের ভাষায়, সামরিক পদক্ষেপকে কখনোই জাতীয় নীতির স্বাভাবিক উপকরণ হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং কেবলমাত্র চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে একেবারে শেষ বিকল্প হিসেবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এই যৌথ বিবৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে চলমান যুদ্ধ, শান্তি ও পররাষ্ট্রনীতির নৈতিকতা নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।