আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২১ জানুয়ারি- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ভারতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের যেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশার মধ্যে বাড়তে থাকা ফারাক একটি সম্ভাব্য কর্মসংস্থান সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতেও গ্র্যাজুয়েটরা শিল্পখাতের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হতে পারেন।
ভারতের অর্থনীতিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা এবং গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানযোগ্যতার মধ্যকার ব্যবধান কমানোর জন্য দেশটির এআই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন।
উচ্চশিক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন
কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। পাঠ্যক্রমকে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে।
এআই বদলে দিচ্ছে প্রায় সব শিল্পখাত
স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত রূপান্তর ঘটাচ্ছে। অটোমেশন, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং মেশিন লার্নিং এখন দৈনন্দিন কর্মপ্রবাহের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
লার্নিং স্পাইরালের প্রতিষ্ঠাতা মনীশ মোহতা বলেন, নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেভাবে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে- এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও উৎপাদনের মতো অনেক শিল্পখাত এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও মেশিন লার্নিং যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক মডেল ও কার্যপ্রক্রিয়া বদলে ফেলছে।
এআই দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে
এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতার চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেই গতিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি।
মনীশ মোহতা আরো বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত দক্ষতার চাহিদা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। কিন্তু সমস্যা হলো- অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম এখনো পুরোনো ধাঁচের এবং নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। ফলে শিক্ষকদেরও এআই শিক্ষকের ভূমিকা নিতে হবে।
প্রবেশাধিকার ও সমতার চ্যালেঞ্জ
এআই-ভিত্তিক শিক্ষার সম্ভাবনা থাকলেও এটি একমাত্র সমাধান নয়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও স্বল্পআয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধার অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে মনীশ মোহতা বলেন, সরকারি সহায়তা না থাকলে এআই-কেন্দ্রিক শিক্ষা কেবল অভিজাত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি, শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, যোগাযোগ দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করলে এমন এক কর্মশক্তি তৈরি হবে যারা দক্ষ হলেও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে না।
ডিগ্রির বিকল্প নয়, পরিপূরক হিসেবে এআই শিক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-কেন্দ্রিক শিক্ষা কখনোই ঐতিহ্যবাহী ডিগ্রির বিকল্প হতে পারে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি প্রয়োজন।
কার্যকর এআই শিক্ষার জন্য কী প্রয়োজন?
কার্যকর এআই শিক্ষার জন্য বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান, এআই দক্ষতা, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব অপরিহার্য।
সার্বিকভাবে, এআই-চালিত শিক্ষা ভারতের অর্থনীতিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা এবং গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানযোগ্যতার মধ্যকার ব্যবধান কমানোর একটি সম্ভাবনাময় সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au