মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২২ জানুয়ারি- আগামী ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবছর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের যৌথ আয়োজনে এই পূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক উগ্রবাদী নেতার মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সেই ব্যানারের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নাগেশ্বরী উপজেলার ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী নামের একজন ব্যক্তি লেখেন, সরকারি কলেজে কীভাবে এই আয়োজন সম্ভব এবং সেখানে কখনো কোরআন তরজমার আয়োজন হয়েছে কি না। তার এই মন্তব্যকে সরাসরি পূজার বিরোধিতা এবং ধর্মীয় উসকানি হিসেবে দেখছেন কলেজের হিন্দু শিক্ষার্থীরা।
হিন্দু শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সরাসরি কোনো হুমকি পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এসব বক্তব্য থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে, যা পূজার শান্তিপূর্ণ আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ফিরদাউস হাসানের পোস্টের নিচে তার অনুসারীদের অনেকেই পূজার বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ এই আয়োজনকে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন এবং হিন্দু ধর্মীয় আচারকে কটাক্ষ করেছেন। তবে একই পোস্টে ভিন্নমতও উঠে এসেছে। কয়েকজন মন্তব্যকারী বলেছেন, কলেজ প্রাঙ্গণে যেমন মসজিদে নামাজ আদায় হয়, তেমনি অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আয়োজন করার অধিকার রয়েছে এবং এ নিয়ে উসকানি দেওয়া অনুচিত।
ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী নামের ঐ আইডির পোস্টটিতে তার অনুসারীরা বিতর্কিত ঐ মন্তব্যের পক্ষে মন্তব্য করছেন। H-Md Maidul Islam নামের একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে,
‘অনতিবিলম্বে এই আয়োজনকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হোক ,, তাদের এই তন্ত্র মন্ত্র পড়ে বা শুনে কি আজও জাতি কি শিক্ষার মেরুদন্ড অর্জন করতে পারবে ,,, এ কেমন কর্তৃপক্ষ যারা হিন্দুদের আদর্শে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে ,,, ধিক্কার জানাই এমন আয়োজন করার ব্যাপারে,,,’
এর বিপরীতে বিজয় নামের একজন লিখেছেন,
‘কলেজের অভ্যন্তরে মসজিদে যেমন সব বেলায় নামাজ সম্ভব ঠিক তেমনি সকল ধর্মের উপস্থিত সম্ভব উস্কানি দেওয়ার কোন দরকার নাই।’
কে এই ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী নামেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পরিচিত। তিনি মিরপুরের একটি মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন বলে জানা গেছে। নিজেকে তিনি দাওয়াতি কাফেলার দাঈ হিসেবে পরিচয় দেন। পাশাপাশি একটি ধর্মীয় সংগঠনের দায়িত্বে থাকার কথাও তিনি দাবি করেন। তিনি বর্তমানে গ্রেফতার থাকা অন্যতম ধর্মীয় উগ্রপন্থী নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর একনিষ্ঠ ভক্ত। ফিরদৌস হাসান কুড়িগ্রামী দাওয়াতি কাফেলা কুড়িগ্রামের দাঈ, লাব্বাইক কাফেলা কুড়িগ্রামের কোষাধ্যক্ষ, এবং মাদরাসা সাবীলুর রাশাদ-এর পরিচালক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একজন বিতর্কিত উগ্রবাদী চিন্তাধারার অনুসারী হিসেবে পরিচিত এবং একাধিকবার ধর্মীয় ইস্যুতে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।
সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পুরনো অভিযোগ
ফিরদাউস হাসানের বিরুদ্ধে অতীতেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজারহাট উপজেলা থেকে দুইজন হিন্দু কিশোরীকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। পরে ওই দুই কিশোরীকে আদালতে হাজির করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিখোঁজ দুই কিশোরীর পিতা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ফিরদাউস হাসানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এতে তার অনুসারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাজারহাট থানার ওসিকে বদলি করতে বাধ্য করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন জেলায় মন্দির ভাঙচুর, প্রতিমা ভাঙা, পূজামণ্ডপে হামলা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোর সূত্রপাত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব বা উসকানিমূলক পোস্ট থেকে।
এই প্রেক্ষাপটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে সরস্বতী পূজাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে পূজার আয়োজন সম্পন্ন করা যায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au