ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল-মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে। ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করার দাবি করেছে ওয়াশিংটন, আর তেহরান…
মেলবোর্ন, ২৩ জানুয়ারি- যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘নিউ গাজা’ নামে এই মাস্টার প্ল্যানে ভূমধ্যসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন, আধুনিক আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল, পর্যটন কেন্দ্র এবং নতুন সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে এতে। খবর জানিয়েছে বিবিসি।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর কার্যক্রম শুরুর কথাও জানান। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং গাজার পুনর্গঠন তদারকি করা।
উপস্থাপিত স্লাইডে দেখা যায়, গাজার উপকূলজুড়ে প্রায় ১৮০টি উঁচু ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাফাহ এলাকাকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে বড় আবাসিক প্রকল্প, যেখানে এক লাখের বেশি স্থায়ী ঘর, ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র থাকবে। এছাড়া থাকবে কৃষিজমি, শিল্প অঞ্চল, তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, আধুনিক কারখানা, পার্ক ও খেলাধুলার সুবিধা।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, গাজাকে নতুন করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি আশাবাদী। নিজের রিয়েল এস্টেট পটভূমির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমুদ্রের ধারের এই ভূখণ্ডটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি অনেক মানুষের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার জানান, যুদ্ধের ফলে গাজায় প্রায় ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমেছে এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়েছে। এসব সরিয়ে পুনর্গঠন শুরু করাই এখন মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, গাজাকে ধাপে ধাপে নতুন করে গড়ে তোলা হবে এবং দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই নিউ রাফাহ এলাকার কাজ শেষ করা সম্ভব।
মাস্টার প্ল্যানে মিশর সীমান্তের কাছে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মিশর ও ইসরায়েল সীমান্তসংলগ্ন একটি বিশেষ নিরাপত্তা অঞ্চল দেখানো হয়েছে, যেখানে গাজা পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুশনার জানান, পুনর্গঠনের কাজ চারটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথমে রাফাহ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে গাজা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন দেশ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে।
তবে এই পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অতীতে ট্রাম্প গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নেওয়ার এবং গাজাকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের কথা বলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। এ ছাড়া হামাস বরাবরই জানিয়ে এসেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে রাজি হতেই হবে, নইলে তাদের জন্য পরিণতি হবে কঠোর।
সব মিলিয়ে ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনাকে একদিকে আশার নতুন রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে এর বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ও উদ্বেগও বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au