আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর থেকে রাশিয়া তাদের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার শুরু করেছে। পাঁচজন সিরীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কামিশলি বিমানবন্দর থেকে ধাপে ধাপে রুশ সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সিরিয়ার এমন একটি অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটতে চলেছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে কুর্দি বাহিনীর কাছ থেকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
২০১৯ সাল থেকে রাশিয়া কামিশলি বিমানবন্দরে সীমিত আকারে সেনা মোতায়েন করে রেখেছিল। এটি ছিল সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত হমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটির তুলনায় ছোট একটি সামরিক উপস্থিতি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ওই দুটি প্রধান ঘাঁটি আপাতত বহাল রাখার পরিকল্পনাই রয়েছে মস্কোর।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারার নেতৃত্বাধীন সরকারি বাহিনী চলতি মাসে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের কাছ থেকে উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বিভক্ত ভূখণ্ডের ওপর আবারও কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে দামেস্ক। এই প্রেক্ষাপটেই কামিশলি থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে কামিশলি বিমানবন্দর থেকে রুশ বাহিনীর প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একজন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাদের একটি অংশ পশ্চিম সিরিয়ায় স্থানান্তর করা হবে, আর অন্য অংশ রাশিয়ায় ফিরে যাবে অথবা হমেইমিম বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে। সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত দুই দিনে কামিশলি থেকে রুশ সামরিক যান ও ভারী অস্ত্র হমেইমিমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কুর্দি বাহিনী ও সরকারি সেনাদের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি শনিবার আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখনও নড়বড়ে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রুশ দৈনিক কোমারসান্ত গত সপ্তাহে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিরীয় সূত্রের বরাতে জানায়, কুর্দি বাহিনী সরে যাওয়ার পর সিরীয় সরকার রুশ সেনাদের ওই ঘাঁটি ছাড়তে বলতে পারে, কারণ সেখানে তাদের আর কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল রাশিয়া। তবে প্রায় ১৪ মাস আগে আহমেদ আল–শারা ক্ষমতায় আসার পর মস্কোর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে দামেস্ক। শারা গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সিরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে অতীতে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি সম্মান করা হবে। এই অবস্থান থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ায় রাশিয়ার দুটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ আপাতত নিরাপদ থাকছে।
সুত্রঃরয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au