‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- স্ত্রী ও সন্তানকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম। তবে এই জামিনে পরিবারে নেই কোনো স্বস্তি বা আনন্দ। বরং ক্ষোভ, আক্ষেপ আর অসহায়তার কথাই বলছেন তাঁর স্বজনেরা। তাঁদের প্রশ্ন, স্ত্রী ও সন্তান বেঁচে থাকতে যে জামিন পাওয়া গেল না, এখন সেই জামিন দিয়ে আসলে কী হবে।
কারাফটকে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে শেষবার দেখার পর সাদ্দামের জামিনের খবরে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা দেলোয়ারা একরাম। ছেলের ভবিষ্যৎ ভাবনায় তিনি উদ্বিগ্ন। দেলোয়ারা একরাম বলেন, স্ত্রী-সন্তান বেঁচে থাকতে জামিন হলো না, এখন জামিন দিয়ে কী হবে। বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে আর বউয়ের কবর। এই জামিনে কী সান্ত্বনা আছে।
আক্ষেপের সুরে তিনি আরও বলেন, এক মামলায় জামিন মিললে আরেক মামলায় আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কত চেষ্টা করেছি ছেলের জামিনের জন্য। স্ত্রী আর সন্তানের মৃত্যুর এক দিন আগেও যদি জামিন পেত, তাহলে হয়তো আজ এই দৃশ্য দেখতে হতো না। এখন জামিন হওয়া আর না হওয়া একই কথা।
পরিবারের অন্য সদস্যদের কথাতেও উঠে এসেছে একই বেদনা। প্যারোলে মুক্তি চেয়েও তা না পাওয়াকে অমানবিক উল্লেখ করে সাদ্দামের শ্বশুর ও জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, একজন বন্দির স্ত্রী ও শিশুসন্তান মারা যাওয়ার পরও যদি তাকে শেষ বিদায়ে যেতে না দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাইতেই হয়।
প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, তাঁরা নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সেই আবেদন কার্যকর হয়নি। পরে জামিন পাওয়ার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও তাঁর কণ্ঠেও রয়েছে গভীর হতাশা।
সাদ্দামের শ্যালক শাহনেওয়াজ আমিন শুভ বলেন, এই জামিন দিয়ে কী হবে। সবকিছু যেন এক ধরনের নাটকীয়তায় পরিণত হয়েছে। সময়মতো মানবিক সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি হয়তো অন্য রকম হতে পারত।
সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার বেঞ্চ মানবিক বিবেচনায় সাদ্দামকে জামিন দেন। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
জুয়েল হাসান সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, সংগঠনটি বর্তমানে নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন থেকে একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
এর মধ্যেই গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী এবং নয় মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন শনিবার বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও শিশুর মরদেহ আনা হয় সুবর্ণার বাবার বাড়িতে। সেখানে গোসল শেষে বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে।
সেদিন সন্ধ্যায় কারাফটকে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে মা ও শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সুবর্ণার বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাঁদের।
স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সেই সমালোচনার মধ্যেই জামিন পেলেও পরিবার বলছে, এই মুক্তি তাদের শোক আর শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ করতে পারছে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au