লিবিয়া উপকূলে ভেসে এলো ১৫ অভিবাসীর মরদেহ
মেলবোর্ন, ২১ জুন- লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনা ও নানা গুঞ্জনের মধ্যে স্পষ্ট অবস্থান জানালেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানিয়েছেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি এবং সরকার তার সীমিত মেয়াদে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা অসুস্থ থাকায় বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পে কমিশনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর প্রায় ১৫ দিনের মতো। এই স্বল্প সময়ে এমন একটি বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। পে কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন বা না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার। এজন্য সুপারিশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা পে কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় কমিশন গঠন করা হয় এবং তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন গ্রহণ করাই বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র।
তিনি আরও বলেন, পে কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি কার্যকর করার জন্য নয়। আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের চাপ, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখার জন্যই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী সরকার চাইলে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বা প্রয়োজন হলে পরিবর্তনও আনতে পারবে।
পে কমিশনের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে তিনি জানান, সর্বোচ্চ হিসাবে এটি প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে বাস্তবে এ ধরনের বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর করা হয় না। সাধারণত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, এই সরকার মূলত ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মাস্টারপ্ল্যান কিংবা মাল্টিমডাল ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোও পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে। পে কমিশনের বিষয়টিও একই ধারাবাহিকতার অংশ।
সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা বা আন্দোলনের আশঙ্কা এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় যেন কোনো ধরনের অচলাবস্থা তৈরি না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা মানেই তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নয়, বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।
জিনিসপত্রের দাম বাড়ার সঙ্গে পে কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সরকার এখনো কোনো বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে পে কমিশনের কারণে মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ার প্রশ্নই আসে না।
এদিকে মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি দেখেননি। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে এমন কোনো বিষয় উপস্থাপনও করা হয়নি।
সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট, অন্তর্বর্তী সরকার পে কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে না। বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়েই রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au