মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত…
মেলবোর্ন, ২১ জুন- লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এসব মরদেহ উপকূলে ভেসে আসে। ঘটনার পর নিখোঁজ আরও বহু মানুষের ভাগ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে লিবিয়ার তুবরুক শহরসংলগ্ন বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন। নৌকাডুবির পর জীবিত উদ্ধার হওয়া ১০ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা জানা গেছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া কয়েকটি মরদেহ ইতোমধ্যে পচন ধরেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে দুর্ঘটনাটি কয়েক দিন আগে ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তুবরুক রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবকেরা সাদা সুরক্ষা পোশাক পরে সমুদ্রসৈকত থেকে মরদেহ সংগ্রহ করছেন। পরে সেগুলো বিশেষ ব্যাগে সংরক্ষণ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও শোকের ছায়া ফেলেছে।
এদিকে রাজধানী ত্রিপোলির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ খুমাস শহরের ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, একই নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৩ জন অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে লিবিয়া। ২০১১ সালে সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি-এর পতনের পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার সুযোগে মানবপাচার চক্রগুলো আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও অনিরাপদ নৌযানের কারণে প্রায়ই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসনপথ হিসেবে বিবেচিত।
সাম্প্রতিক এই নৌকাডুবির ঘটনা আবারও ইউরোপগামী অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এবং মানবপাচার সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও নিখোঁজ বহু মানুষের পরিণতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au