লিবিয়া উপকূলে ভেসে এলো ১৫ অভিবাসীর মরদেহ
মেলবোর্ন, ২১ জুন- লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করা…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং ইউনিয়নে দুই বাংলাদেশি কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালীস্থল এলাকার কেউড়া বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কিশোররা হলেন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহেল (১৩) ও মো. ওবাইদ উল্লাহ (১৫)। তারা দুজনই বাংলাদেশি নাগরিক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে দুই কিশোর ঝিমংখালীস্থল এলাকার কেউড়া বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায়। এ সময় মিয়ানমারের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে ছোড়া গুলি সীমান্ত পেরিয়ে এসে দুই কিশোরের শরীরে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে দুজনই সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত মোহাম্মদ সোহেলের মামা মো. ইসমাইল বলেন, “সকালে ওরা লাকড়ি কুড়াতে গিয়েছিল। মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া একাধিক গুলিতে তারা আহত হয়। একজনের পা ও বুকে, অন্যজনের বুকে গুলি লেগেছে। দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।” তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সকালে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। “তবে আহত দুজন সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় ছিল। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
এর আগেও হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ জানুয়ারি একই এলাকায় হুজাইফা আফনান নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরদিন সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসব ঘটনায় সীমান্তবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টার শেল নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা থামছে না। রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপসহ আশপাশের এলাকায় আরাকান আর্মির অবস্থানে সরকারি জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে স্থলভাগে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে। এর ফলে বাংলাদেশ–মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au