‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে ফিরলে তার প্রথম ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে সংবিধানসম্মত শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা। জি-২৪ ঘণ্টা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ কার্যত আইনের বাইরে চলছে। মব-সন্ত্রাস, বিচারবহির্ভূত গ্রেপ্তার ও গণহারে আটকের মাধ্যমে পুরো গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা দাবি করেন, বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাহান্ন হাজার মানুষ মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন এবং তাঁদের অনেকেই নির্যাতনের শিকার। এসব মানুষকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুতগতির অর্থনীতি থমকে গেছে, বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুবসমাজ, কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য কাজ নেই। রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সংখ্যালঘুরা প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
চরমপন্থী শক্তিগুলোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, যেসব গোষ্ঠীর সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে, তারা এখন প্রকাশ্যে সক্রিয়। কেউ কেউ নিজেরাই অপরাধের কথা স্বীকার করছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করতে হলে গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে থাকুক, দেশসেবায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে নিষিদ্ধ ও নির্যাতিত অবস্থায় থেকে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি ও তারেক রহমান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংসদীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের এবং সেটিই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক রীতি। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে শাসনব্যবস্থা আরও মজবুত হয়। তবে তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করেছেন এবং নেতৃত্ব মানে দেশের ভেতরে থেকে জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়া। পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে চরমপন্থী শক্তির আপসের ইতিহাস নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ভোটের সময় ভোটারদের ভয় দেখানো ও জোর করে ভোট আদায়ের অভিযোগ সামনে আসছে, যা গণতন্ত্র নয়।
তিনি বলেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে তারা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে, এমনটাই তিনি আশা করেন। শেখ হাসিনার ভাষায়, প্রকৃত বিরোধী দল ছাড়া সংসদ কখনও কার্যকর হতে পারে না।
জঙ্গি শরিফ ওসমান হাদিকে শহিদ আখ্যা দিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাধিস্থ করার ঘটনায় তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক। সহিংসতা ও ধ্বংসের সঙ্গে তাঁর আদর্শের কোনো সম্পর্ক নেই। হিংসায় জড়িত ব্যক্তিদের মহিমান্বিত করা গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সংবাদমাধ্যমে আগুন দেওয়ার ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটি কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ। খালেদা জিয়া একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। তবে ভারতের মূল স্বার্থ হলো বাংলাদেশে স্থিতিশীল ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার থাকা। সংখ্যালঘু, সাংবাদিক ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা কোনো দেশেরই স্বার্থে নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দল পুনর্গঠন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো পরিবারের সম্পত্তি নয়। এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের দল, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করে। এই সংকট দেখিয়েছে কোথায় পরিবর্তন দরকার। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও ডিজিটাল যুগ বোঝে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে দল নিষিদ্ধ থাকা এবং হাজার হাজার কর্মী কারাগারে থাকার কারণে প্রকৃত পুনর্গঠন সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি জানান।
গত এক বছরে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দূর থেকে দেখেছেন দেশ কীভাবে ভেঙে পড়ছে। অর্থনীতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবু তিনি দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সাহস থেকে শক্তি পান। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি ১৯৭১ সালের স্বপ্ন। ভয় ও দমন দিয়ে সেই স্বপ্ন মুছে ফেলা যায় না, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত তার মানুষেরই থাকবে।
সূত্রঃ জি-২৪ ঘণ্টা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au