‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতা, হুমকি ও হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতেই প্রার্থী, সমর্থক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর একের পর এক হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন আসনে গুলিবর্ষণ, ছুরিকাঘাত, ভাঙচুর এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছেন, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি দেখে একাধিক প্রার্থী নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
যেসব প্রার্থী সম্প্রতি নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজা এবং ফরিদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচনে আগ্রহী সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক ঢাকা টাইমসের সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান ডলন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ থাকবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপর। নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও নির্বাচনী ক্যাম্প, মাইক, অফিস, গাড়ি এমনকি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
প্রার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে এক অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এর আগে শনিবার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ছেলে ও ভাইয়ের প্রাণনাশের আশঙ্কায় শাহবাগ থানায় একটি জিডি করা হয়।
একই দিনে কেরানীগঞ্জের হাজরাতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান মোল্লা ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত প্রার্থী হাজী মো. এনায়েতুল্লাহর নির্বাচনী প্রচার থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। এনায়েতুল্লাহ দাবি করেন, তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সেখানে এসেছিল।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ২৩ জানুয়ারি বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান রতনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে তথাকথিত বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের মিছিলে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হন বলে মহিউদ্দিন দাবি করেন। এর আগে ১৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের ওপর হামলার চেষ্টা হয়, যেখানে দলের দুই কর্মী আহত হন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানের সময় র্যাবের এক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। চার দিন পর প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইয়াসিন একটি হুমকিমূলক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুক্রবার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে অভিযুক্ত মো. লিয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসব ঘটনায় প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ও নাহিদ ইসলাম ডিম নিক্ষেপের ঘটনার পেছনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুললেও বিএনপি তা অস্বীকার করেছে। এনসিপির নির্বাচন বিষয়ক মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম বলেন, একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সময় পাটোয়ারীর ওপর হামলা হয়। রমনা থানার ওসি মোহাম্মদ রহাত খান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
ঢাকা-৭ আসনের ভোটার শাহজাহান কবির লিটন বলেন, ১৭ বছর পর ভোট দিতে আগ্রহী হলেও নিরাপত্তা তার সবচেয়ে বড় চিন্তা। তিনি জানান, নিরাপদ মনে হলে অবশ্যই ভোট দেবেন।
জামায়াত প্রার্থী আমির হামজা বলেন, একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় তিনি জিডি করতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি ওয়াজ মাহফিলও স্থগিত করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মতুব্বর বলেন, জিডিটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন করে পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ হবে। র্যাব কর্মকর্তা হত্যা ও পুলিশ সদস্যের ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসে, সহিংসতা তত বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল করতে একটি গোষ্ঠী সব সময় সক্রিয় থাকে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, এলাকা ভিত্তিক গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ভোটকেন্দ্রে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
নির্বাচনী প্রচার জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামনের দিনগুলোতে প্রার্থী, ভোটার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au