অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ কোকেন জব্দ,গোপন বাঙ্কার থেকে উদ্ধার ৮১৬ মিলিয়ন ডলারের মাদক
মেলবোর্ন, ২২ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোকেন জব্দের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির ফেডারেল পুলিশ সিডনির পশ্চিমাঞ্চল থেকে প্রায় ২ দশমিক ৭ টন কোকেন উদ্ধার করেছে,…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- মুম্বই থেকে বারামতীর জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। যে Learjet 45 চাটার্ড বিমানে তিনি যাচ্ছিলেন, সেটি নিয়ে দুর্ঘটনার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। বিশেষ করে এই বিমানটি একসময় ভারতে উড়ান নিষিদ্ধ ছিল-এই তথ্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে। ঘন কুয়াশার কারণে বারামতীতে অবতরণের সময় জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন পাইলট। তবে তার আগেই পাহাড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভেঙে পড়ে Learjet 45 বিমানটি। সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে নয়টার মধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিমানে অজিত পওয়ার ছাড়াও ছিলেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষী, একজন অ্যাটেনডেন্ট এবং দু’জন পাইলট। দুর্ঘটনায় সবাই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পরেই আলোচনায় আসে Learjet 45 বিমানের অতীত ইতিহাস। মিড-সাইজের এই এগজিকিউটিভ জেট মূলত ব্যবসায়িক যাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং একসময় দেশজুড়ে বেশ জনপ্রিয় ছিল। ১৯৯৫ সালে এই মডেলের উৎপাদন শুরু হয়। তবে ভারতে এর উড়ান ইতিহাস মসৃণ ছিল না। একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০০৩ সালে ভারতের আকাশসীমায় Learjet 45-এর উড়ান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তৎকালীন সময়ে এই বিমানে এয়ার প্রেসার সিস্টেম, উইন্ড শিল্ড এবং উচ্চতায় উড়ানের সময় কাঠামোগত সমস্যার অভিযোগ ওঠে। একাধিক ঘটনায় উইন্ড শিল্ডে ফাটল ধরার কথাও নথিভুক্ত হয়। এসব কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে এই বিমানের চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে রিমডেলিং ও কারিগরি পরিবর্তনের পর আবার ধীরে ধীরে ব্যবহারে ফিরে আসে Learjet 45।
সূত্রের দাবি, অজিত পওয়ার দীর্ঘদিন ধরেই এই বিমানটি ব্যবহার করছিলেন। মুম্বই পৌরসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক সফরেও এই চাটার্ড বিমান তাঁর যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছিল। আমেদাবাদের একটি বিমান দুর্ঘটনার পর ডিজিসিএ উড়ানের আগে যান্ত্রিক পরীক্ষা ও নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কঠোর করে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, ভিভিআইপি যাত্রার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক পরীক্ষা আদৌ ঠিকভাবে করা হয়েছিল কি না। বিশেষ করে যে পাহাড়ি এলাকার উপর দিয়ে বিমানটি যাচ্ছিল, সেখানকার আবহাওয়ার রিপোর্টে স্পষ্টভাবে কম দৃশ্যমানতার কথা উল্লেখ ছিল। তা সত্ত্বেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কেন উড়ানের ছাড়পত্র দিল, তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই দুর্ঘটনার তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, যান্ত্রিক ত্রুটি না কি মানবিক সিদ্ধান্তের ভুল—সব দিক খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au