চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপ করা সেই আহত তরুণের মৃত্যু। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুন- রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রায় ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে সাজিদের মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি কাফরুল থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন দিবাগত রাতে শেওড়াপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় সাজিদকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয়। ইটের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে তিনি মারা যান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত হামলা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সম্পত্তি–সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ। একই সঙ্গে ঘটনার কয়েক দিন আগে এলাকার কয়েকজন যুবক সাজিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা শুরু করেছিলেন। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে মো. ফয়সাল ওরফে কালু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে সাজিদের ওপর হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ ধারণা করছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা সংঘটিত হয়েছিল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু এবং মো. ফয়সাল ওরফে কালু।
নিহত সাজিদ চৌধুরী রাফি রাজধানীর কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবা শামসুল চৌধুরী ও মা তানিয়া সিকদারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ এবং অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।