চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপ করা সেই আহত তরুণের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২২ জুন- রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় গুরুতর আহত তরুণ সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্রায় ১৫ দিন মৃত্যুর…
মেলবোর্ন, ২২ জুন- চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কালোতালিকাভুক্তির পদক্ষেপের জবাবে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বিরল খনিজ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। সোমবার বেইজিং এ ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ইঙ্গিত বহন করছে এই পদক্ষেপ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাত্র এক মাসের মাথায় এ সিদ্ধান্ত এলো। ওই সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন। বৈঠকে উভয় দেশ শুল্ক হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত শিল্পখাতে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৮০টি চীনা কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান চীনা সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। তালিকায় প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ও বাইদুর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বেইজিং।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘চীনা সামরিক এন্টারপ্রাইজ তালিকায়’ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ। জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে এর প্রতিক্রিয়ায় নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যাভিওক্স, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও মহাকাশ প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন চুক্তি রয়েছে। এছাড়া সামরিক যানবাহন নির্মাতা ওশকোশ ডিফেন্স, বিরল খনিজ উৎপাদনকারী এমপি মেটেরিয়ালস এবং ইউএসএ রেয়ার আর্থও তালিকাভুক্ত হয়েছে।
চীনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কাছে সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য দ্বৈত-ব্যবহার সামগ্রী রপ্তানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান যেকোনো রপ্তানি কার্যক্রমও অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শুধু চীনা রপ্তানিকারক নয়, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বা অঞ্চলের প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি যদি চীনে উৎপাদিত এসব সামগ্রী সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছে সরবরাহ করে, তাহলেও একই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।
একই দিনে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। সরকারি ক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত চীনা সংস্থাগুলোর জন্য ৪৬টি মার্কিন কোম্পানির তৈরি পণ্য কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই তালিকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা ঠিকাদার লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন, বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা বিভাগ, জেনারেল ডাইনামিকস এবং অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের বিভিন্ন ইউনিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।
তবে চীন জানিয়েছে, দেশটির ভেতরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী মার্কিন বিনিয়োগসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। নতুন এই বিধিনিষেধ সোমবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রিকে কেন্দ্র করে গত দুই বছর ধরেই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও চীন একই ধরনের কারণে কয়েকটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেনি। অন্যদিকে তাইওয়ান নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তা প্যাকেজ বর্তমানে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। যদিও ট্রাম্প ও সি চিন পিং সম্প্রতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন, বাস্তবে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের দ্বন্দ্ব আরও গভীর হচ্ছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সূত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au