শিল্পকারখানায় চাঁদা দাবির অভিযোগ, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন এমপিপুত্র সজীব
মেলবোর্ন, ২২ জুন- নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের…
মেলবোর্ন, ২২ জুন- সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থানকালে দাসপ্রথাসংশ্লিষ্ট অপরাধে অভিযুক্ত অস্ট্রেলীয় নাগরিক কাওসার আহমদের জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি চলছে। ৫৪ বছর বয়সী এই নারী গত মাসে সিরিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার পর গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দাসপ্রথাসংশ্লিষ্ট চারটি অভিযোগে মামলা চলছে।
মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে চলমান একাধিক দিনের শুনানিতে কাওসার আহমদের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, জামিন পেলে তিনি পরিবারের সঙ্গে মেলবোর্নে অত্যন্ত সীমিত ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করবেন এবং জনজীবনে সক্রিয় থাকবেন না।
আদালতে কাওসার আহমদের পক্ষে আইনজীবী পিটার মরিসি বলেন, প্রসিকিউশন পক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে মুক্তি পেলে তিনি ধর্মীয় প্রচারণা চালাতে পারেন বা মসজিদকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন। তবে তার মক্কেল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি এমন কিছু করবেন না এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবেন।
শুনানিতে জানানো হয়, জামিন পেলে কাওসার আহমদ মেলবোর্নের উত্তরাঞ্চলের কোনো মসজিদে যাবেন না, নির্ধারিত ঠিকানায় কারফিউ মেনে চলবেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও মেনে নেবেন। এছাড়া তিনি স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করারও পরিকল্পনা করছেন।
শুনানির বড় অংশজুড়ে কাওসার আহমদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হয়। ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী মাইকেল ডেভিস আদালতকে জানান, তিনি কাওসার আহমদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতাসংশ্লিষ্ট একাধিক মানসিক সমস্যার লক্ষণ শনাক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটক থাকায় তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
ডেভিস বলেন, কাওসার আহমদ বর্তমানে তার সন্তান, নাতি-নাতনি ও মায়ের সঙ্গে সময় কাটানোর ব্যাপারে এতটাই আগ্রহী যে জামিন পেলে তিনি খুব কমই বাড়ির বাইরে যেতে চাইবেন। পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারলে তার বিষণ্নতার মাত্রা অনেকটাই কমে আসতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, কাওসার আত্মহত্যার প্রবণতা প্রকাশ করেননি। তবে মানসিকভাবে চাপে পড়লে তিনি স্বীকার করেন যে মৃত্যু হয়তো ভালো হতো, যদিও সন্তানদের ছেড়ে যাওয়ার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।
সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডেভিস বলেন, বর্তমানে কাওসার আহমদের আচরণে এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, এ ধরনের উগ্রবাদ ত্যাগের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও কাওসার বর্তমানে হুমকিসূচক আচরণ প্রদর্শন করছেন না।
কাওসার আহমদের ভাই আব্রাহাম আব্বাস তার জামিনের জন্য ৭৫ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের নিশ্চয়তা দিতে রাজি হয়েছেন। আদালতে তিনি বলেন, আইএস তাদের পরিবারের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তিনি এই গোষ্ঠীকে ঘৃণা করেন।
প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে অভিযোগ করে, ২০১৫ সালের শুরুতে আহমদ পরিবারের সদস্যরা তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যান এবং সেখানে আইএসকে সমর্থন করার সময় একটি দাসকে আটকে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, কাওসার আহমদ ওই দাসকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন। ওই ব্যক্তি ছিলেন ইয়াজিদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য, যাদের ওপর আইএস ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছিল।
আদালতে উপস্থাপিত ভুক্তভোগীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাওসার আহমদ সরাসরি কোনো শারীরিক ক্ষতি না করলেও তাকে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা নিতে বাধ্য করতেন এবং বলা হতো, পড়াশোনা না করলে তার পরিণতি নরকে হবে। এতে তিনি নিজেকে হুমকির মুখে মনে করতেন।
প্রসিকিউশন আরও দাবি করেছে, কাওসার আহমদ শুধু ওই ইয়াজিদি নারীই নন, আইএসের অন্যান্য সমর্থকদেরও ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন।
তবে আদালতে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে প্রায় ছয় বছর ধরে কাওসার আহমদ, তার মেয়েরা এবং কয়েকজন নাতি-নাতনি সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি পরিচালিত দুটি আটক শিবিরে ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ওই সময় অন্যদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার কোনো প্রমাণ তার জানা নেই।
মনোবিজ্ঞানী ডেভিস আরও বলেন, সিরিয়ায় কাওসার আহমদের এক ভাই এবং দুই ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনা তার মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার ধারণা, এসব ঘটনার কারণেই বর্তমানে আইএস সম্পর্কে কাওসার আহমদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নেতিবাচক হয়ে উঠেছে।
এর আগে আদালতে শুনানিতে কাওসার আহমদ প্রকাশ্যে আইএসকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও জানানো হয়েছিল। বর্তমানে তার জামিন আবেদন নিয়ে আদালতের শুনানি অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au