চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের টানা–ছেঁড়া আলোচনার পর অবশেষে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দুই পক্ষই এই চুক্তিকে আখ্যা দিয়েছে ‘মাদার অব অল ডিলস’। চলমান ভূ–অর্থনৈতিক সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই এই ঐতিহাসিক সমঝোতা হলো। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও ইইউ মিলে প্রায় ২৭ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বাজার তৈরি হলো, যেখানে দুই বিলিয়ন মানুষের বসবাস।
মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর এক দিন আগে, সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। ওই সময়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়।
মঙ্গলবার ভার্চ্যুয়ালি এক জ্বালানি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের জনগণের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর ভাষায়, এই সমঝোতা শুধু ভারতের উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করবে না, একই সঙ্গে সেবা খাতের পরিসরও আরও বিস্তৃত করবে। তিনি বলেন, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিশ্বের প্রতিটি ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীর কাছে ভারতের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ভারত ও ইউরোপ আজ ইতিহাস তৈরি করল। দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে উঠল, যেখানে উভয় পক্ষই লাভবান হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারত ও ইইউর মধ্যে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ মিলিয়ে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি। ইইউর কাস্টমস ইউনিয়নের আওতায় থাকা সব দেশই এর অন্তর্ভুক্ত।
২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের জন্য সাধারণ শুল্ক সুবিধা বা জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছিল, যার ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের বাড়তি শুল্কের মুখে পড়তে হয়। নতুন এই চুক্তির ফলে বস্ত্র, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, ইস্পাত, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ একাধিক খাতে ভারত বাড়তি সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই চুক্তির আওতায় ইইউ ভারতকে ১৪৪টি সেবা উপখাতে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে, আর ভারত ইইউকে ১০২টি উপখাতে বাজার খুলে দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্থিক সেবা, সামুদ্রিক পরিবহন এবং টেলিযোগাযোগ খাত উল্লেখযোগ্য।
চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া এখনো ব্রাসেলস ও নয়াদিল্লিতে আইনি যাচাই–বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। বাণিজ্য অর্থনীতিবিদ বিশ্বজিৎ ধর জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ হলে এটি আগামী বছর থেকে কার্যকর হতে পারে।
ভারতের গাড়ি শিল্প এত দিন বিদেশি প্রতিযোগিতার জন্য বেশ সুরক্ষিত ছিল। অতীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই খাত খুলে দিতে ভারতের অনীহা। নতুন চুক্তির আওতায় এবার সেই অবস্থানে পরিবর্তন আসছে। ইউরোপীয় গাড়ির ওপর ভারতের শুল্ক ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানো হবে এবং কয়েক বছরের মধ্যে তা ধাপে ধাপে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হবে। তবে ১৫ হাজার ইউরোর কম দামের গাড়ি এই সুবিধার বাইরে থাকবে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও প্রথম পাঁচ বছর শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে না, যাতে দেশীয় নির্মাতারা সুরক্ষা পান।
এই ঘোষণার পর ভারতীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম কিছুটা কমে যায়। তবু সরকার বলছে, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি ভারতের শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক হবে।
ইইউর জন্যও চুক্তিটি বড় সুবিধা নিয়ে এসেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ভারতের বাজারে তাদের ৩০ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক সঙ্গে সঙ্গে শূন্য হবে। মোট মিলিয়ে ৯৬ দশমিক ৬ শতাংশ ইউরোপীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এর ফলে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতীয় পণ্যের ৯০ শতাংশের ওপর সব ধরনের শুল্ক তুলে দিচ্ছে। সাত বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৯৩ শতাংশে পৌঁছাবে। সামুদ্রিক খাদ্য, রাসায়নিক পণ্য, প্লাস্টিক, চামড়া, বস্ত্র, পোশাক, ধাতু এবং স্বর্ণালংকার খাতে ভারত তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ফলে দুই পক্ষের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশই কোনো না কোনো শুল্ক ছাড়ের আওতায় আসবে।
তবে ইইউর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম বা সিবিএএম থেকে ভারত এখনো ছাড় পায়নি। এর ফলে ইস্পাত, সিমেন্ট ও সারসহ উচ্চ কার্বন নির্গমনকারী পণ্যে কর দিতে হবে ভারতকে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও ইইউ উভয়েরই সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত–ইইউ পণ্য বাণিজ্য দ্রুত বেড়েছে। ২০২০ সালে যেখানে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ বিলিয়ন ডলারে। ইইউ এখন ভারতের সবচেয়ে বড় পণ্য বাণিজ্য অংশীদার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রেক্ষাপটেই ভারত ও ইইউ এই চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করেছে। তাঁদের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও একটি বড় বার্তা, যেখানে ভারত ও ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত করছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au