‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যে সরকার অংশগ্রহণের সুযোগ বাদ দিয়ে জন্ম নেয়, তারা কখনোই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না। তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করার পর এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে এবং অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের বড় একটি অংশকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হলে ক্ষোভ বাড়ে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং ভবিষ্যতে অস্থিতিশীলতার ক্ষেত্র তৈরি হয়। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দিয়ে তাঁর কোটি কোটি সমর্থককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলন দমনে সহিংস অভিযানের অভিযোগে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ওই আন্দোলনে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তাঁর সরকারের পতন ঘটে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা আরও জোরদার করেছেন। কারণ, তাঁর মতে, এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এটিই দেশের প্রথম নির্বাচন, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের পাশাপাশি একটি প্রস্তাবিত সাংবিধানিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি ভোটারদের সামনে তোলা হবে।
গত সপ্তাহ থেকেই দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় নির্বাচন কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়ে বিরোধী মত ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রস্তাবিত গণভোট ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানিয়েছে, নির্বাচন সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা চাপ প্রয়োগ করে ফলাফল প্রভাবিত করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকেও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন। আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। দিল্লির একটি প্রেস ক্লাবে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে পাবে না। অনলাইনে সম্প্রচারিত ওই বক্তব্য এক লাখের বেশি সমর্থক সরাসরি অনুসরণ করেন।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত সরকারের অনুমতিতে তাঁকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে জেনে তারা বিস্মিত ও হতবাক। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি নয়াদিল্লি।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। অতীতে ভারতের সমর্থন পাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au