‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে চীন সফরে গিয়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজানোর ফলে বড় অর্থনৈতিক সুফল মিলছে বলে দাবি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
শুক্রবার চীন সফরে থাকা স্টারমার বেইজিংয়ে বিভিন্ন বৈঠকে যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্ক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই নতুন সম্পর্ক যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তবে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তাদের জন্য এটা খুবই বিপজ্জনক।” কেন বিপজ্জনক, সে বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি সেন্টারে ‘মেলানিয়া’ নামের একটি চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারের আগে তিনি এই মন্তব্য করেন।

চীন সফরের চার দিনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ দিনে, গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রায় ৮০ মিনিট ধরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন স্টারমার। ছবিঃ রয়টার্স
পশ্চিমা বিশ্বে ট্রাম্পের আচরণ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কিয়ার স্টারমারই সর্বশেষ পশ্চিমা নেতা, যিনি চীন সফরে গেলেন। বৃহস্পতিবার তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে স্টারমার চীনের সঙ্গে ‘আরও পরিণত ও বাস্তবধর্মী সম্পর্ক’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, শুল্ক কমানো এবং বিনিয়োগ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি আলোচনায় আসে ফুটবল ও শেক্সপিয়ারের মতো সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গও।
স্টারমারের এই সফরের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের মন্তব্য সামনে আসে এমন এক সময়, যখন তিনি নিজেও আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন। এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চীন সফর ও বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তির পর কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন।
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিট কিংবা চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
এর মধ্যেই বেইজিংয়ে যুক্তরাজ্য-চীন বিজনেস ফোরামের এক সভায় বক্তব্য দেন স্টারমার। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক ছিল ‘খুবই আন্তরিক’ এবং সেখান থেকে বাস্তব অগ্রগতি এসেছে। তিনি ভিসামুক্ত ভ্রমণ এবং হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানোর চুক্তিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। স্টারমারের ভাষায়, এসব উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
চীন সফরের অংশ হিসেবে স্টারমার সাংহাই যাওয়ার আগে দেশটির কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন চীনা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চেরির প্রধান নির্বাহী ইন টংইউয়ে। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানান, চেরি তাদের বাণিজ্যিক যানবাহন বিভাগের জন্য ইংল্যান্ডের লিভারপুল শহরে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।
স্টারমারের লেবার সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। এই অবস্থায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তার এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ট্রাম্প একদিকে বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের কথাও বলছেন। এসব বক্তব্যে যুক্তরাজ্যসহ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলো অস্বস্তিতে রয়েছে।
চীন যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে খুবই ঘনিষ্ঠ। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য ও বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক গভীর। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব এবং এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হবেন না।
স্টারমার আরও বলেন, যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরের সময় দেশটিতে ১৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের মার্কিন বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীন সফরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আগেই ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছিল। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।
সাধারণত ট্রাম্পের সমালোচনা এড়িয়ে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে স্টারমার কিছু বিষয়ে সরাসরি অবস্থান নিচ্ছেন। গত সপ্তাহে ন্যাটো সেনাদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে তিনি ‘একেবারেই আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করেন এবং এ জন্য ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বলেন। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখল সংক্রান্ত দাবিতেও তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হননি।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপের অন্য নেতারাও চীনমুখী হচ্ছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মারৎস শিগগিরই চীন সফরে যেতে পারেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চীন সফর করেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে বেইজিংয়ের বাইরে একটি বিরল সফরে সঙ্গ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, “যেসব বিশ্বনেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করছেন, তাদের জানা উচিত, চীন শুধু সস্তা পণ্য আর সস্তা বন্ধুত্বই বিক্রি করে।”
ট্রাম্পের মন্তব্যের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে স্টারমারের প্রচেষ্টা সফল হবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তার ভাষায়, চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ এবং তাদের বাজারে পণ্য রপ্তানি করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, “ব্রিটিশরা যদি চীনে রপ্তানি করতে চায়, তাহলে তাদের জন্য শুভকামনা, তবে সেটা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।”
লুটনিককে জিজ্ঞেস করা হলে, কানাডার মতো যুক্তরাজ্যের ওপরও কি শুল্কের হুমকি দেওয়া হবে, তিনি বলেন, যদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নেন বা কঠিন কথা না বলেন, তাহলে এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au