‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৩১ জানুয়ারি- গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লিতে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। লন্ডন থেকে যাওয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ সদস্য ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানা গেছে।
এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। তারা ভারতে প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান শেষে ২৬ জানুয়ারি লন্ডনে ফিরে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের একাধিক সদস্য সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই তথ্য স্বাধীন কোনো দ্বিতীয় সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাক্ষাৎ করে আসা আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মোবাইল ফোনসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর একাধিক ধাপে নিরাপত্তা যাচাই শেষে প্রতিনিধিদলটিকে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে তাঁর বসবাসরত স্থানে নেওয়া হয়।
ওই নেতা আরও বলেন, তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটান এবং পুরো সময়টিই তিনি তাদের দিয়েছেন। তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার ছাপ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। শারীরিকভাবে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি, তবে আগের তুলনায় কিছুটা ওজন কমেছে বলে তাদের মনে হয়েছে।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা জানান, দিল্লিতে ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সুসজ্জিত ও উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত বাসভবনে শেখ হাসিনাকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁর সেবা ও দেখভালের জন্য একাধিক ব্যক্তি নিয়োজিত রয়েছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা কয়েক স্তরে বিস্তৃত বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিত বিরতিতে লন্ডন থেকে দিল্লিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছুদিন অবস্থান করেন বলেও ওই নেতা উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি ও বার্তার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। অনলাইনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও তাঁকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। ভিডিও কনফারেন্স বা সরাসরি কোনো অনলাইন অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিও দেখা যায়নি। গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো তাঁর রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়।
এদিকে, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি ফিরবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর মা রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এবং দেশে ফিরে অবসর নিতে চান।
২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে আনুমানিক এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হন।
এই আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হত্যা, গুম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে তাঁকে ভারতের কাছ থেকে হস্তান্তরের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারত সরকার এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেনি।
সূত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au