চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২ ফেব্রুয়ারি- ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেওয়ায় পাকিস্তানকে নিয়ে জরুরি বোর্ড সভা ডাকতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি। সংস্থাটির ভেতরের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার বা বুধবার আইসিসি বোর্ডের বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে পাকিস্তানের অবস্থান এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। তবে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তান সরকার জানায়, তাদের জাতীয় দল ভারতের বিপক্ষে খেলবে না। যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পিসিবির কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা বার্তা পায়নি আইসিসি।
সরকারের সিদ্ধান্ত প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর পাকিস্তান দলের অধিনায়ক সালমান আলি আগা বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, জাতীয় দল সেটিই মেনে চলবে। তিনি জানান, বিষয়টি ক্রিকেট বোর্ডের হাতে নেই। এদিকে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, যিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও আছেন, এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এর আগে তিনি পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের কথা বললেও পরে অবস্থান বদলে শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ইঙ্গিত দেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশকে সমর্থন জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে দলটির জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে আইসিসি সে সময় বাংলাদেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবি অস্বীকার করেছিল।
আইসিসির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি সত্যিই ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে মাঠে না নামে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মাঠের হিসাবে ম্যাচ বর্জন করলে পাকিস্তান সরাসরি দুই পয়েন্ট হারাবে এবং নেট রান রেটেও বড় ধাক্কা লাগবে।
মাঠের বাইরের শাস্তি আরও গুরুতর হতে পারে। সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি না দেওয়া এবং এই লিগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বাণিজ্যিক সহায়তা প্রত্যাহার। এছাড়া আইসিসি থেকে পাওয়া রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশ কেটে নেওয়া হতে পারে, যার ওপর পিসিবি অনেকটাই নির্ভরশীল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না হওয়ায় সম্প্রচারকারীদের যে আর্থিক ক্ষতি হবে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে পিসিবিকে বাধ্য করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়া এবং পাকিস্তানকে ঘিরে সব দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
আইসিসি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। সংস্থাটি বলেছে, জাতীয় নীতির বিষয়ে সরকারগুলোর ভূমিকার প্রতি সম্মান রেখেই তারা জানাতে চায়, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট বা বিশ্বজুড়ে ভক্তদের স্বার্থে নয়। আইসিসি আশা করছে, পিসিবি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, কারণ এর প্রভাব শুধু পাকিস্তান নয়, পুরো বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি দেখা ম্যাচগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও এই ম্যাচের জনপ্রিয়তা কমেনি। ২০১২ সালের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে আইসিসি নিয়মিতভাবে ভারত ও পাকিস্তানকে একই গ্রুপে রাখছে। গত বছর এশিয়া কাপে এক মাসের মধ্যে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, যা সম্প্রচার সংস্থাগুলোর জন্য বিপুল রাজস্ব এনে দেয়।
এই মাসে যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করে, তাহলে সম্প্রচার সংস্থাগুলো আইসিসির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে বিশ্বকাপে ম্যাচ না খেলার ঘটনা থাকলেও এত উচ্চপর্যায়ের এবং শেষ মুহূর্তে ঘোষণা করা বয়কট নজিরবিহীন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় যায়নি। ২০০৩ বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় ইংল্যান্ড এবং কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবিতে ম্যাচ খেলেনি নিউজিল্যান্ড। তবে এসব ঘটনার কোনোটিই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের মতো বড় আলোচনার জন্ম দেয়নি।
সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au