মেলবোর্ন,৩ ফেব্রুয়ারি- ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে তেহরানে অবস্থানরত সব ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে ‘কঠিন হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা ইইউর একটি গুরুতর ভুল সিদ্ধান্ত এবং এটি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতি সরাসরি অপমান। তিনি জানান, রাষ্ট্রদূতদের তলব করে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং এর পরিণতি সম্পর্কে ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
বাঘাই বলেন, ইরান ইতোমধ্যে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপীয় সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি যোগ করেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তেহরান আরও প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
এদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যেই পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছ থেকে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এতে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখতে পারে তুরস্ক, মিশর ও কাতার।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে আগ্রহী। প্রস্তাবিত বৈঠকে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনার আহ্বান ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি কোনো কৌশলগত প্রতারণা নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ট্রাম্প এটিকে ‘বিশাল নৌবহর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হলে তা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ