কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশিসহ নিহত ৬। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুন- মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে দেশটির আল শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। অপর নিহত ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।
নিহত বাংলাদেশিরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ। একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর খবরে তাদের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রবাসী শ্রমিকরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে যাত্রা করছিলেন। পথে আল শাহানিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে গাড়িটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। বর্তমানে মরদেহগুলো কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো দ্রুত স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের কাজ চলছে, যাতে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানো যায়।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, একই এলাকার পাঁচ প্রবাসীর এমন করুণ মৃত্যু পুরো কানাইঘাটবাসীকে শোকাহত করেছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করতে পারেন।
বাংলাদেশিদের এই মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
একসঙ্গে পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু শুধু তাদের পরিবার নয়, পুরো কানাইঘাট অঞ্চলে শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে। স্বজনরা এখন প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।