‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি- ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। শেখ হাসিনাসহ দলটির শত শত নেতা সেদিন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে এখন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটি এবার নির্বাচনের বাইরে। এক প্রকার অবৈধভাবেই সরকারিভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দলটির কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
নির্বাচনে জালিয়াতি, দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বহু নেতা বর্তমানে মামলার মুখে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির প্রথম সারির নেতারা কী ভাবছেন, কীভাবে রাজনীতিতে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন, সে চিত্র উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থেকেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নানা পরিকল্পনা করছেন। তাদের বিশ্বাস, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ একদিন আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, শুধু পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাতেই আওয়ামী লীগের ছয় শতাধিক নেতা অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা নিয়মিত দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যাওয়ার পর থেকে দিল্লির একটি সুরক্ষিত ও গোপন ঠিকানা থেকে তিনি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ ও বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এসব যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা ভারত সরকারের কঠোর নজরদারির মধ্যেই হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দলীয় কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গত এক বছরে সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও রয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য দলকে প্রস্তুত করছেন।
সাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা কখনো কখনো দিনে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা ফোন কল ও বৈঠকে ব্যস্ত থাকেন। তিনি খুবই আশাবাদী এবং বিশ্বাস করেন, একদিন তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও মনে করেন, শেখ হাসিনা ‘বীরের বেশে’ দেশে ফিরবেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের বড় অংশ বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং অনেকেই পলাতক হিসেবে চিহ্নিত। তবে এসব অভিযোগ সত্ত্বেও কলকাতার শপিং মল, ফুড কোর্ট কিংবা ক্যাফেতে বসে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাচ্ছেন এবং রাজনীতিতে ফেরার নানা ছক কষছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে তারা ভিন্ন চোখে দেখছেন। কলকাতার উপকণ্ঠে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি বিলাসবহুল ভবনে বসবাসরত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না। তার ভাষায়, এটি ছিল একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার জন্য ‘সন্ত্রাসীদের ক্ষমতা দখল’। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি সেগুলোকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন।
তবে দলটির সব নেতা একই অবস্থানে নেই। কেউ কেউ ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগের ভুল স্বীকারও করছেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কলকাতায় অবস্থান করা সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি স্বীকার করেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিল না এবং শাসনামলে কর্তৃত্ববাদী আচরণ করেছে। তার মতে, ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি এবং সেটি আরও স্বচ্ছ হতে পারত।
দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রসঙ্গেও তিনি স্বীকার করেন যে, এমন কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছে যা হওয়া উচিত ছিল না এবং এর দায় দলকে নিতে হবে। তবে শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এদিকে কলকাতা ও দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই বিব্রতকর প্রশ্ন তৈরি করছে। ভারতের ভূখণ্ড থেকে একটি বিদেশী রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে কলকাতায় অবস্থান করা আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ভারত থেকে তাদের ফেরত পাঠানো হবে, এমন আশঙ্কা তারা করছেন না।
এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, যখন শেখ হাসিনা দিল্লিতে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ভাষণ দেন। তার গোপন বাসস্থান থেকে ধারণ করা একটি অডিও বার্তায় তিনি আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ভারতের রাজধানীতে এমন আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। তবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au