মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
মঙ্গলবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। তার ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ কার্যত একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে আইন মানা হয় না, ঘৃণাবাক্য ছড়ায় এবং সত্যের চেয়ে ভুয়া তথ্য বেশি গুরুত্ব পায়।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে কঠোর ও কার্যকর বয়স যাচাইব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হবে। সানচেজ স্পষ্ট করে বলেন, কেবল টিক চিহ্ন বা আনুষ্ঠানিক যাচাই যথেষ্ট নয়; বাস্তবে যেন ১৬ বছরের নিচে কেউ প্রবেশ করতে না পারে, সেই বাধা নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অনলাইন জগৎ আসক্তি, নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি ও সহিংসতায় ভরা। তিনি বলেন, শিশুদের এমন একটি পরিবেশে বড় হতে দেওয়া আর মেনে নেওয়া যায় না।
গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা চালুর পর এবার ইউরোপে একই পথে হাঁটল স্পেন। যদিও এখনো নির্দিষ্ট করে কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এই আইনের আওতায় পড়বে, তা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
তবে বক্তব্যে সানচেজ কয়েকটি বড় প্ল্যাটফর্মের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি টিকটকের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ তোলেন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্সের বিরুদ্ধে অবৈধ যৌন কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ করেন এবং ইনস্টাগ্রামকে ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারির জন্য দায়ী করেন।
নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, ঘৃণামূলক বা অবৈধ কনটেন্ট সময়মতো না সরালে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অ্যালগরিদম ব্যবহার করে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমা আরোপের উদ্যোগ চলছে। স্পেনের সিদ্ধান্ত সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মেটা জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ কার্যকরের পর ১৬ বছরের নিচের বলে সন্দেহভাজন পাঁচ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, সরাসরি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিশোররা বিকল্প উপায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।