‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তায় চীন ও ভারতের সম্পর্ককে “ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু ও অংশীদার” হিসেবে উল্লেখ করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
শি জিনপিং বলেন, গত এক বছরে চীন-ভারত সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত ও বিকশিত হয়েছে, যা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দুই দেশ পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াবে এবং একে অপরের উদ্বেগের জায়গাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
চীনা প্রেসিডেন্টের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রায় চার বছর ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লি সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। ২০২০ সালে দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। ওই ঘটনায় চারজন চীনা সেনাও নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার পর ভারত চীনা মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক নিষিদ্ধ করে এবং চীনা বিনিয়োগের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে।
তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য অব্যাহত ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও ভারতের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
গত বছরের আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে সফর করেন। ওই সময় তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে নিজের অঙ্গীকারের কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের কিছুদিন পরই মোদির এই অবস্থান দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের শুল্কযুদ্ধ শুরু করেন, যা ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। অন্যদিকে চীনা পণ্যের ওপর শুল্কের হার ৩০ শতাংশের বেশি।
২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়। পাঁচ বছর পর সেটিই ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক। ভারত ও চীন দু’দেশই ব্রিকস জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এই জোটকে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই সমালোচনা করে আসছেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় শি জিনপিং চীন ও ভারতকে “ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নৃত্য” করার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি, তবে দুই দেশই সম্পর্ককে সুস্থ ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে গত বছরের অক্টোবরে ভারত ও চীন পাঁচ বছর পর আবারও সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি ভারত ধীরে ধীরে চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা করছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবেই শি জিনপিংয়ের এই বার্তাকে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au