ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- যৌন অপরাধে দণ্ডিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ওঠা অভিযোগের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে কথা বলেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও বিলিয়নিয়ার বিল গেটস। তিনি স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল তার জীবনের একটি বড় ভুল এবং সে জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত।
অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য তিনি অনুশোচনা করেন এবং এ বিষয়ে তিনি ক্ষমাও চান। তার ভাষায়, তিনি যা করেছেন, তা ছিল বোকামি।
বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে তার সঙ্গে জেফ্রি এপস্টেইনের পরিচয় হয়। সেই সময় এপস্টেইন ইতোমধ্যেই অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌন সেবা নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডিত ছিলেন। গেটস বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের মূল কারণ ছিল বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে অর্থ সংগ্রহের সম্ভাবনা। এপস্টেইন দাবি করতেন, তিনি বহু ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারবেন, যারা এই খাতে অনুদান দিতে আগ্রহী হতে পারেন।
তবে গেটস বলেন, পরে বুঝতে পারেন যে এই ভাবনা পুরোপুরি ভুল ছিল এবং এর কোনো ফল হয়নি। তার ভাষায়, পেছনে ফিরে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো ছিল একেবারেই অকার্যকর সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, এপস্টেইনকে চেনার জন্য অনুশোচনা করা অনেক মানুষের মধ্যে তিনিও একজন।
বিল গেটস জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই সীমিত ছিল। তিন বছরের মধ্যে তারা কেবল কয়েকবার নৈশভোজে একসঙ্গে বসেছিলেন। তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারী সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন না বলে স্পষ্ট করেন।
এই সাক্ষাৎকারটি আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নতুন করে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই। বর্তমানে বিল গেটস অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে ছুটি কাটানোর পাশাপাশি গেটস ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কাজেও যুক্ত আছেন।
নতুন প্রকাশিত নথিতে ২০১৩ সালের কিছু ইমেইল ও খসড়া নোটের কথা উঠে এসেছে, যেগুলো নাকি এপস্টেইন লিখেছিলেন। এসব নোট ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো করে লেখা ছিল এবং সেখানে বিল গেটসকে ঘিরে কিছু গুরুতর ও বিতর্কিত দাবি করা হয়। একটি খসড়া নোটে বলা হয়, রুশ নারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরিণতি সামলাতে এপস্টেইন নাকি গেটসকে মাদক সংগ্রহে সহায়তা করেছিলেন।
আরেকটি ইমেইলে এপস্টেইন অভিযোগ করেন, ছয় বছরের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠার পরও গেটস নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে উপেক্ষা করেছেন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। তবে বিল গেটস জানান, এসব ইমেইল এপস্টেইন নিজেই নিজেকে পাঠিয়েছিলেন এবং সেগুলো কখনো তার কাছে পাঠানো হয়নি। তিনি বলেন, এসব লেখার পেছনে এপস্টেইনের মানসিকতা কী ছিল, তা তিনি জানেন না।
বিল গেটস আবারও বলেন, এই বিষয়গুলো সামনে আসায় তার কাছে একটাই অনুভূতি ফিরে আসে, তা হলো এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য গভীর অনুতাপ।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিল গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নতুন করে প্রকাশ পাওয়া অভিযোগগুলোর কথা জানতে পেরে তিনি প্রচণ্ড দুঃখ অনুভব করেছেন। তার মতে, এসব তথ্য তার দাম্পত্য জীবনের অত্যন্ত কষ্টকর স্মৃতিগুলোকে আবার সামনে নিয়ে আসে।
মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ বলেন, এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর বাকি আছে, সেগুলোর জবাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই দিতে হবে, এমনকি তার সাবেক স্বামীকেও। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় তার নয়।
এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা ও দায় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিল গেটসের এই প্রকাশ্য অনুতাপ সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্রঃ নিউজ ডটকম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au