ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি- দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচনের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দুর্গ গোপালগঞ্জ। ফলে দলটির আজীবন সমর্থকদের সামনে এখন দুটো পথ খোলা আছে। ভোট না দেওয়া, অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলগুলোকে বেছে নেওয়া।
শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জে এক সময় যে প্রতীকটি নির্বাচন মানেই চোখে পড়ত, সেই নৌকা এবার পুরোপুরি অনুপস্থিত। ব্যালট পেপার কিংবা দেয়াল পোস্টার কোথাও নেই আওয়ামী লীগের প্রতীক। এই জেলা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
এবার সেই জায়গা দখল করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গোপালগঞ্জের দেয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন তাদের প্রচারণা চোখে পড়ছে।
এই পরিবর্তন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ছেদ। কারণ এই গোপালগঞ্জ থেকেই উঠে এসেছিলেন শেখ হাসিনা ও তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা নেতা।
টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে চলে যান। এরপর তার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমান নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে।
দল নেই, তাই ভোটও নেই
অনেক আজীবন আওয়ামী লীগ সমর্থকের কাছে এই নির্বাচন এখন অর্থহীন মনে হচ্ছে।
গোপালগঞ্জের এক রিকশাচালক এরশাদ শেখ বলেন, ব্যালট পেপারে যদি নৌকা না থাকে, তাহলে তার পরিবারের ১৩ জনের কেউই ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন বিরোধী দলের পোস্টারে ঢাকা একটি দেয়ালের সামনে।
গত বছরের অক্টোবরে শেখ হাসিনা সতর্ক করেছিলেন, তার দলকে বাদ দিলে লাখো সমর্থক প্রতিনিধিত্বহীন হয়ে পড়বে এবং এর ফলে ব্যাপক ভোটার অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে।
এই বঞ্চনার অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপে। ঢাকার একটি আদালত গত বছরের শেষ দিকে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মারা যান। যদিও এসব অভিযোগ শেখ হাসিনা অস্বীকার করেছেন।
ভোটারদের ঝোঁক বদলাচ্ছে
তবে সব সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটার যে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা নয়। সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, তাদের প্রায় অর্ধেক এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, যারা বর্তমানে বেশিরভাগ জনমত জরিপে এগিয়ে আছে। আর প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার ঝুঁকছেন জামায়াতে ইসলামীর দিকে।
এই জরিপটি পরিচালনা করেছে ঢাকাভিত্তিক কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির মতে, সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটাররা পুরোপুরি ভোট বর্জন না করে নির্দিষ্ট বিরোধী বিকল্পের দিকে একত্রিত হচ্ছেন।
গোপালগঞ্জে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব অনেক পরিবারের জন্যই কষ্টের। শিখা খানম জানান, তার ভাই আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠনের একজন কর্মী ছিলেন। গত জুলাইয়ে এক সমাবেশ ঘিরে সহিংসতার পর তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিখা বলেন, তারা আর ভোট দেবেন না। রাজনীতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ।
ভয়, আশা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন
২০২৪ সালের আন্দোলন স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশকে ঘিরে গত জুলাইয়ে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। অনেক আওয়ামী লীগ কর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বলেন, সেই ঘটনার পরও তাদের দৈনন্দিন জীবনে ভয় কাজ করছে।
তবে আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিকে প্রকৃত প্রতিযোগিতার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
গোপালগঞ্জের এক ব্যবসায়ী শেখ ইলিয়াস আহমেদ বলেন, আগে মনে হতো তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এবার তিনি বিশ্বাস করতে চান যে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ শাহান মনে করেন, ভোটার উপস্থিতি হয়তো সমান হবে না, তবে ফলাফল হবে গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, আওয়ামী লীগের মূল সমর্থকরা ভোট না-ও দিতে পারেন। কিন্তু দ্বিধাগ্রস্ত এবং স্থানীয় বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবেন।
গোপালগঞ্জ যখন তাদের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি ছাড়া ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই নির্বাচনের ফলাফলই হয়তো সবচেয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে, শেখ হাসিনা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতির রূপ কোন দিকে যাচ্ছে।
সূত্রঃ স্টার নিউজ গ্লোবাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au