বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ফিরবে কি?
মেলবোর্ন, ২১ জুন- ২৩ জুন ১৯৪৯। ঢাকার রোজ গার্ডেনে জন্ম নিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্রহীন পাকিস্তানে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা। বঙ্গবন্ধু শেখ…
মেলবোর্ন ৭ ফেব্রুয়ারি- ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক এবং বাংলাদেশ–পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক কতটা স্পর্শকাতর এবং সেই পরিস্থিতির সুযোগ পাকিস্তান নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) লোকসভায় লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাব দেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কি কোনো স্পর্শকাতর পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান কি ভারতের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে।
জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে। সামাজিক বন্ধনও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন, এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই সম্পর্ক স্বতন্ত্র ও স্বাধীন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের যেসব ক্ষেত্রে ভারতের জাতীয় স্বার্থ জড়িত, সেসব বিষয়ে ভারত সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
লোকসভায় আরেক প্রশ্নে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরছে।
তিনি জানান, এই ইস্যু সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেও আলোচিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এছাড়া ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোট’ বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি জানান, ‘প্রথমে প্রতিবেশি’ নীতির আওতায় ভারত নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়ন সহযোগিতা, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে।
নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au