নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ২১ জুন- বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বাস্তবে প্রণালিটি এখনো খোলা রয়েছে এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখন পর্যন্ত জাহাজ চলাচলে কোনো বড় ধরনের বাধা দেখা যায়নি।
জেডি ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকালও হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাহাজগুলো চলাচল করছে এবং আমরা সেটিই দেখতে পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে ইরান কার্যকরভাবে প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।’
এর আগে আইআরজিসি নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দেয়। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক জাহাজ ও বাণিজ্যিক নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ প্রতিদিন যাতায়াত করে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট এটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালি সত্যিই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, শিপিং খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, এখনো পর্যন্ত প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো তাৎক্ষণিক বিঘ্ন ঘটেনি। যদিও অঞ্চলজুড়ে চলমান উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au