ভারতে মন্দিরের ছাদ ধসে ৪ জন নিহত, ধ্বংসস্তূপে আটকা প্রায় ২০
মেলবোর্ন, ২১ জুন- ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পারভানী জেলায় একটি মন্দিরের সভা-মণ্ডপের ছাদ ধসে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে…
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতায় সাধারণ মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসন সবাই চরম চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করলেও উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪৫ সদস্যের আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনকে ঘিরেই মূলত এই অস্থিরতার সূত্রপাত। ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পাকিস্তানে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। সংগঠনটি গত ৯ জুন ধর্মঘটের ডাক দিলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে চারজন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭ জন পুলিশ সদস্য। এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৫১৫ জনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাওয়ালাকোট অঞ্চলের উপকণ্ঠে এখনো হাজারো আন্দোলনকারী অবস্থান করছেন। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে প্রশাসন প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং গণমাধ্যমের চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ফলে অঞ্চলটির সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। মুজাফফরাবাদের আপার আড্ডা বাণিজ্যিক এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে, অনেক এটিএম বুথে অর্থ উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনায় বহু পেট্রল পাম্পও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা ও পণ্য সংগ্রহে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় ট্যাক্সিচালক আসিফ নাজে বলেন, যাদের কিছু সঞ্চয় রয়েছে তারা হয়তো কয়েক দিন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, কিন্তু দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই অচলাবস্থা ভয়াবহ। কাজ না থাকায় বহু পরিবারে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফেলতে চেয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু এবার নিজ নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেই প্রাণহানি, ধরপাকড়, ইন্টারনেট বন্ধ এবং বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ ইসলামাবাদের জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নির্বাচনকে ঘিরে সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au