বন্ডাই হামলা নিয়ে রয়্যাল কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ, ১৪ দফা সুপারিশ
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে গঠিত রয়্যাল কমিশন তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে হামলার সময় দেশটির নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রতিবেশী ভারত যে অস্বাভাবিক রকমের আগ্রহ ও উদ্বেগ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তা দিল্লির নীতিনির্ধারক ও কূটনৈতিক মহলে এখন আর গোপন নয়। দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই নির্বাচন ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কারণ হলো, প্রায় দেড় যুগ পর বাংলাদেশে এমন একটি সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নাও থাকতে পারে। টানা প্রায় ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত দিল্লির জন্য এটি একেবারেই নতুন বাস্তবতা। ফলে সম্ভাব্য নতুন সরকার কোন পথে হাঁটবে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন কী হবে—এসব বিষয় নিয়ে আগাম হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, ছবিঃ বিবিসি
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিএনপির ভূমিকা। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে কি না, কিংবা জামায়াতে ইসলামী সরকারে যুক্ত হবে কি না—এ প্রশ্নের উত্তর ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় দিল্লির অভিজ্ঞতা খুব একটা স্বস্তিকর ছিল না। যদিও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি ও আঞ্চলিক বাস্তবতা অনেকটাই বদলেছে।
তৃতীয়ত, জামায়াতে ইসলামী সরকারে থাকুক বা শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবেই থাকুক, নতুন সংসদে তাদের প্রভাব যে উল্লেখযোগ্য হবে, তা প্রায় নিশ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে ভারতের কাছে এক ধরনের অঘোষিত ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই দলটির সঙ্গে দিল্লি কীভাবে যোগাযোগ বা সম্পর্ক গড়ে তোলে, সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তবে এসব রাজনৈতিক হিসাবের বাইরেও ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের মাটিতে কোনো আশ্রয় না পাওয়াকে দিল্লি বড় সাফল্য হিসেবে দেখে। নতুন সরকার এই প্রশ্নে কী অবস্থান নেয়, সেটিই ভারতের জন্য সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু।
দিল্লির পর্যবেক্ষকদের মতে, নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত কোনো আপস করবে না। তবে একই সঙ্গে ভারতের সাবেক কূটনীতিকদের একটি অংশ মনে করেন, পারস্পরিক নির্ভরতা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা দুই দেশকে শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার পথেই রাখবে।
এবারের নির্বাচনে ভারতের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কৌশল হলো প্রকাশ্যে দূরত্ব বজায় রাখা। অতীতের নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, এবার সে রকম পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লি সচেতনভাবে নীরব থেকেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ভারতবিরোধী স্লোগানের অভিজ্ঞতাও এই কৌশলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসের মতে, এই নির্বাচন থেকে ভারতের প্রধান প্রত্যাশা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। তার ভাষায়, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত ও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার আসুক—এটাই এখন দিল্লির চাওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ-পরবর্তী বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তা পূরণে বিএনপিকে আপাতত ভারতের কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জামায়াতের সঙ্গেও নীরব যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলছে, যা দিল্লির বাস্তববাদী অবস্থানকেই তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের এই নির্বাচন ভারতের জন্য শুধু একটি প্রতিবেশী দেশের ভোট নয়; এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, ভারতের প্রত্যাশা একটাই—নতুন সরকার যেন স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দেয়।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au