চেনাব নদীর ওপর পরিকল্পিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১ হাজার ৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এটি জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে রাজ্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এই প্রকল্পকে সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় ভারতের জন্য বরাদ্দ জলসম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, চেনাব নদীতে ভারতের সরাসরি জল ব্যবহার সীমিত হলেও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো নন-কনজাম্পটিভ ব্যবহারে ভারতের অধিকার রয়েছে। সেই সুযোগকেই এখন আরও সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে চাইছে নয়াদিল্লি।
এনএইচপিসির প্রকাশিত টেন্ডার নথি অনুযায়ী, বাঁধ, সুড়ঙ্গ এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য দরপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে আগামী ১২ মার্চ থেকে এবং শেষ হবে ২০ মার্চ। জমা দেওয়া দরপত্রগুলোর বৈধতা থাকবে ১৮০ দিন। পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাল ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ দিন, অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে চলবে এই বৃহৎ নির্মাণকাজ।
সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনার তালিকায় থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং জলসম্পদের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ায় এখন এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প ভারতের জল ও শক্তি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি উত্তর ভারতের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কেন্দ্রীয় ও জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি রামবান জেলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। নির্মাণপর্বে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও প্রকৌশলীর কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় ভারত। পাকিস্তান-সমর্থিত ওই হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার জল কূটনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পূর্ব দিকের নদী রবি, বিয়াস ও সুতলজ। অন্যদিকে পশ্চিম দিকের নদী সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের অধিকাংশ জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের হাতে থাকলেও নির্দিষ্ট শর্তে ভারতের সীমিত ব্যবহার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অধিকার রয়েছে। সাওয়ালকোট প্রকল্পকে সেই অধিকার বাস্তবে প্রয়োগের একটি বড় উদাহরণ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।