মেলবোর্ন, ১০ ফেব্রুয়ারি- টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলবে পাকিস্তান দল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান সরকার। গতকাল মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সরকার জানায়, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে তারা।
এই সিদ্ধান্তের আভাস মিলছিল আগেই। লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কার্যালয়ে আইসিসির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক এবং সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামের উপস্থিতির পরই পাকিস্তানের অবস্থান বদলায়। বৈঠকের পর আইসিসিও এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা সফল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সব সদস্য দেশ আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সম্মত হয়েছে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে নাকভি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আরও কয়েকটি দেশ বিশ্ব ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থের কথা তুলে ধরে পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানানো হয়, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। পাশাপাশি ২০৩১ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের সঙ্গেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম আগেই জানিয়েছিলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আইসিসির সঙ্গে পিসিবির আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট একাধিক শর্ত ছিল। বিশ্বকাপ বয়কটের কারণে বাংলাদেশ যেন কোনো ধরনের শাস্তি বা আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে দাবিও বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
দেশে ফেরার পর বিসিবির এক বিবৃতিতে আমিনুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, বৈশ্বিক ক্রিকেটের সামগ্রিক ইকোসিস্টেমের স্বার্থে পাকিস্তান যেন ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে, সে অনুরোধ তিনি পিসিবির কাছে জানিয়েছিলেন।